দল হেরেছে। এতকাল ধরে শাসকের আসনের আশপাশে ঘুরতে থাকা মুখগুলোর বেশিরভাগই সুযোগ বুঝে পিঠটান দিয়েছেন। তবে চরম দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের হয়ে যিনি ব্যাটন চালিয়ে গিয়েছেন তিনি কুণাল ঘোষ। এবার সেই আনুগত্যেরই পুরস্কার পেলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল কুণালকে। এতদিন এই দায়িত্বে থাকা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের দলে ভিড়ে বিজেপিমুখী হতেই দায়িত্ব থেকে সরানো হল তাঁকে। পাশাপাশি যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব থেকে সায়নী ঘোষকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে আনা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অল্প কিছুদিনের মধ্যে দলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আবির্ভাব ও ছদ্মবেশী ‘বন্ধু’র দল একে একে ক্ষমতার অলিন্দে গা ঘেষতে শুরু করলে শনিবার সকালে হঠাৎ আবির্ভূত হন সুদীপ। তাঁকেও দেখা যায় বিদ্রোহের আগুনে হাত সেঁকতে। শনিবার সাংসদ শতাব্দী রায় নিজের গাড়িতে তাঁকে নিয়ে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি। সূত্রের খবর, সেখানে আলোচনার পর বেরিয়ে সোজা সুদীপ চলে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহের সঙ্গে দেখা করতে। তারপর সারেন আনুষ্ঠানিক সই সাবুদ পর্ব। জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের সঙ্গে থাকা সুদীপের এহেন পালটির পরই শনিবার রাতে দলীয় নেতৃত্বে রদবদলের পথে হাঁটে আদিগঙ্গা পাড়ের ‘আদি তৃণমূল’।
তৃণমূলের তরফে যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, দু’জন নেতৃত্বকে দলের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। এঁরা হলেন, তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্বে আনা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবং উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সাংসদ সুদীপকে সরিয়ে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল শাসকের আসনে থাকাকালীন বহুবার প্রকাশ্যে ঠোকাঠুকি লেগেছে কুণাল ও সুদীপের। শোনা যায়, সুদীপ বিরোধিতার জেরে নেতৃত্বের রোষেও পড়তে হয়েছিল কুণালকে। একদা মমতার আস্থাভাজন সেই সুদীপ বিজেপির প্রসাদ পেতে বিদ্রোহী শিবিরে পা বাড়ালে উত্তর কলকাতার দায়িত্ব এবার তুলে দেওয়া হল কুণালের কাঁধে। অন্যদিকে, সায়নীকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় যাঁকে আনা হয়েছে তিনি অভিনেতা অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়। টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ অর্ণব দীর্ঘদিন যুব তৃণমূলে ছিলেন। সুব্রত বক্সি ও মমতাপন্থী এই নেতাকে সায়নীর বিকল্প হিসেবে বেছে নিল তৃণমূল।