প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ নিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রীরা। আর তাঁদের ক্লাস নিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রিসভার সদস্যদের সাফ জানিয়ে দিলেন, ফাইল ফেলে রাখা যাবে না। লাল ফিতের ফাঁসে যেন কাজ আটকে না থাকে। মন্ত্রী হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব যে অনেক, সে কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যাতে ভাবমূর্তি নষ্ট। কোনও বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্যে করার সময়ে যেন ভেবেচিন্তে করা হয়, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার সল্টলেকের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর সবিস্তার বিবরণ দেওয়া হয় মন্ত্রীদের। প্রাইভেট সেক্রেটারির কী ভূমিকা, দপ্তরের কাঠামো অনুযায়ী এক এক জন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কী ধরনের কাজ করে থাকেন, সচিবস্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা এবং কার এক্তিয়ার কত দূর— এই সমস্ত বিষয়ই ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণে। মন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক কী ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন, সরকারি নোটশিট এবং তার গুরুত্ব-ব্যবহার, মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে কী ভাবে তা তৈরি হয় এবং এগিয়ে যায় পরবর্তী ধাপ পর্যন্ত, তা-ও ছিল প্রশিক্ষণের আওতায়।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রশিক্ষণ শিবিরে মন্ত্রীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, সমস্ত ফাইল খুঁটিয়ে পড়তে হবে। তা বিশদে বুঝতে হবে। সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে ফাইল নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও যে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেন, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। পাশাপাশিই শুভেন্দু বলেন, ‘মন্ত্রীর ইমেজই সব। সেই ইমেজ ধরে রাখতে হবে। সব বিষয়ে মন্তব্য করবেন না। যা করার ভেবেচিন্তে করবেন।’ মন্ত্রীর সীমাবদ্ধতা কতটা, কী ভাবে কাজ করতে হবে, তা-ও বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশিক্ষণ শিবিরে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ফাইলে কী ভাবে নোট দিতে হয়, ফাইল কী ভাবে ক্যারিফরওয়ার্ড (অন্যত্র পাঠানো) করতে হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব।
শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় একমাত্র তাঁর অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বেশি। কারণ, তিনি অতীতে দীর্ঘ সময় সরকারি নানা দায়িত্ব এবং মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। তাপস রায়েরও এই অভিজ্ঞতা রয়েছে। কারণ, তিনিও অতীতে মন্ত্রী ছিলেন। নিশীথ প্রামাণিকও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু বাকি কারও সেই অর্থে হাতে-কলমে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নেই। অতীতে মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের এমন প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাংলাতেও সেই পথেই হাঁটল নতুন বিজেপি সরকার।