• শান্তিনিকেতনে অরবিন্দ নিলয়ে বাণিজ্যিক নির্মাণ? বিতর্কের মাঝেই বার্তা ট্রাস্টের
    প্রতিদিন | ১৪ জুন ২০২৬
  • শান্তিনিকেতনে অরবিন্দ নিলয়ে প্রস্তাবিত কংক্রিটের নির্মাণ ঘিরেই বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করল পুদুচেরির অরবিন্দ আশ্রম ট্রাস্ট। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, শান্তিনিকেতনে অরবিন্দ নিলয় প্রাঙ্গণে কোনও ধরনের নির্মাণকাজের জন্য এখনও পর্যন্ত বোলপুর পুরসভা, বিশ্বভারতী বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সমস্ত সরকারি অনুমতি মিললেই কেবলমাত্র আশ্রমের পরিবেশ ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে কোনও নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করা হবে।

    সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে বসবাসকারী শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের একাংশ ভক্ত ও অনুরাগী অভিযোগ তোলেন, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রী অরবিন্দ নিলয়ের প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ নষ্ট করে সেখানে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণের ভিতরে অবস্থিত প্রয়াত বিশ্বভারতীর ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট রবীন্দ্র ও অরবিন্দ গবেষক শিশির ঘোষের বাড়ি ভেঙে ধর্মশালা, বৃদ্ধাশ্রম এবং ২৮ শয্যাবিশিষ্ট ব্যাঙ্কোয়েট হল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর ফলে আশ্রমের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আশ্রমের অনুরাগীরা।এই অভিযোগের পর পুদুচেরির অরবিন্দ আশ্রম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি মনোজ দাশগুপ্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেখানে জানানো হয়, আশ্রম চত্বরে কিছু উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা হলেও তার জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা প্রশাসনিক অনুমোদনের আবেদন করা হয়নি। পাশাপাশি, আশ্রমের মর্যাদা, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে এই সংক্রান্ত কোনও অনুমতির আবেদন জমা পড়েনি। ভবিষ্যতে আবেদন এলে তা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এলাকার কোর জোন ও বাফার জোন সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে পর্যালোচনা করা হবে।” উল্লেখ্য, ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বিশ্বভারতী এলাকার সংলগ্নেই অবস্থিত অরবিন্দ নিলয়, যা পুদুচেরির শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা কেন্দ্র। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আশ্রমটি বিশ্বভারতীর বাফার জোনের অন্তর্গত। ফলে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক বা বৃহৎ কংক্রিট নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই কারণেই সম্ভাব্য নির্মাণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বহু ভক্ত ও অনুরাগীরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই পৃথকভাবে ই-মেলের মাধ্যমে পুদুচেরি আশ্রম কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন এবং বিশ্বভারতীর উপাচার্যের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    অরবিন্দ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদী আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৬২ সালে মীরা আলফাসার উদ্যোগে শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রী অরবিন্দ নিলয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি আধ্যাত্মিক সাধনা, ধ্যান, যোগচর্চা ও সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আজও প্রতিদিন সেখানে নিয়মিত ধ্যান ও সাধনায় অংশ নেন বহু অনুরাগী। বিতর্কের আবহেই ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের এই স্পষ্ট অবস্থান আপাতত পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে ভবিষ্যতে কোনও নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমস্ত আইন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)