ফের পথে নামছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠছে জাতীয় রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে দেশের যুবসমাজকে একজোট করতে নতুন কর্মসূচি নিল কংগ্রেস। অনেকটা ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার মতো, তবে এ বারে তিনি কথা বলবেন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। ১৭ জুন থেকে এই নয়া কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, ১৭ জুন কোটা থেকে কর্মসূচির সূচনা করবেন রাহুল গান্ধী। ১০ জুলাই এলাহাবাদ, ১১ জুলাই পাটনা ও ১৪ জুলাই দিল্লিতে যাবেন তিনি। ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, যুব সমাজ ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কথা বলবেন। শুনবেন তাঁদের অভাব-অভিযোগ। ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যের ক্যাম্পাসেও দেখা যাবে তাঁকে। রাহুল আগেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এই কর্মসূচি থেকে সেই দাবিই আরও জোরালো ভাবে তুলবেন তিনি।
ইতিমধ্যেই কর্মী এবং সংগঠনগুলিকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে কংগ্রেস। তাঁদের ক্যাম্পাস, কোচিং সেন্টার, স্কুল-কলেজে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে মত বিনিময় করতে বলা হয়েছে। কাজে লাগানো হবে সোশ্যাল মিডিয়াকেও।
নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে ফোকাস করেই আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে কংগ্রেস। বেণুগোপালের কথায়, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের গা ছাড়া মনোভাব নিন্দনীয়। নিট-এর প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার ফি বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’ দেশের তরুণদের ভবিষ্যত রক্ষার জন্যই এই আন্দোলন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই কর্মসূচি সফল করতে যুবসমাজকে আহ্বানও জানিয়েছেন বেণুগোপাল।
উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশ জুড়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। পাশাপাশি সিবিএসই-র উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়েও তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমে পড়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। দিল্লির যন্তমন্তরে অবস্থান বিক্ষোভও করেন তাঁরা। বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া সেখানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। এ বার এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে আন্দোলনে নামতে চলেছেন রাহুল গান্ধী।