ওমান উপসাগরে আমেরিকান সেনার হামলায় ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। চলতি সপ্তাহে মোট তিনটি জাহাজে হামলা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন জন ভারতীয় নাবিকের। কিন্তু নিহত ভারতীয়দের জন্য কোনও শোকপ্রকাশ করেনি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘বন্ধু এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার দাবি করা একটি দেশ কী ভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?’
গত ৮ জুন পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজ ‘মারিভেক্সে’ প্রথম হামলা চালায় আমেরিকান সেনা। ওই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। প্রত্যেককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তার ঠিক দু’দিন পরে অর্থাৎ ১০ জুন ‘সেত্তেবেল্লো’ নামে পালাউয়ের পতাকাবাহী আর একটি একটি জাহাজে মিসাইল হামলা হয়। জাহাজের ২৮ জন নাবিকের মধ্যে ২৪ জনই ছিলেন ভারতীয়। হামলার পরে তাঁদের মধ্যে তিন জন সমুদ্রে তলিয়ে যান। পরে তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জলবীর নামের আরও একটি জাহাজও হামলার মুখে পড়ে। সেখানে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তবে তাঁদের কোনও ক্ষতি হয়নি।
পরপর এই তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে শোকবার্তা প্রকাশ করেনি আমেরিকা। এতেই বেজায় চটেছেন শশী। X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকান সরকারের এই বিবৃতি পড়ে আমি স্তম্ভিত। নিরীহ ভারতীয়দের মৃত্যুর ঘটনায় সামান্য অনুশোচনা বা সমবেদনাও জানায়নি তারা। একজন বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার কী ভাবে এতটা অসংবেদনশীল হতে পারে?’
শুধু সমবেদনার অভাব নয়, হামলার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। থারুরের বক্তব্য, একটি বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দেশ অমান্য করলেই তাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে থামাতে হবে? তাঁর প্রশ্ন, ‘অন্য কোনও উপায়ে কি জাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না? জাহাজের ইঞ্জিন বা নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়েও তো তাকে থামানো সম্ভব ছিল। তা হলে কেন এমন হামলা, যাতে নিরীহ অসামরিক নাবিকদের প্রাণ যায়?’
উল্লেখ্য, ঘটনার পরেই নয়াদিল্লির আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এ দিন আমেরিকান বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনেও এই নিয়ে কথা হয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মাঝে ওমান উপসাগরে আমেরিকান হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর বিষয়টিও তোলেন তিনি। পরে জয়শঙ্কর জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর এই ধরনের প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপ কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।