এই সময়, বারুইপুর: এক সময় তৃণমূলের অন্যতম শক্তঘাঁটি ছিল ফলতা। কিন্তু ২০২৬–এর বিধানসভা ভোটে ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দূর্গ। ফলতায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। রাজ্যে সর্বত্র পদ্মফুল ফুটলেও ফলতার এই জয় বিজেপি নেতা–কর্মীদের যে বাড়তি আনন্দ দিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সে কথা মাথায় রেখেই এ বার ফলতাবাসীর জন্য আলাদা ‘উন্নয়ন প্যাকেজ’ ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। অন্তত এমনটাই দাবি করছেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। শনিবার বারুইপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী ১৭ জুন ফলতার ফতেপুর স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনকল্যাণ শিবিরে হাজির থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি ফলতার জন্য আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী ফলতাবাসীর জন্য বিশেষ উপহার দিতে আসছেন। গত ১৯ মে উনি আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন যে, খুব শিগগিরই উনি ফলতায় আসবেন। তিনি এও বলেছিলেন, ফলতার জন্য কিছু প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। সেটাই হতে চলেছে। আমরা সবাই মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি হয়ে আছি। আস্তে আস্তে ফলতা আবার সেজে উঠছে।’
তিনি এ দিন জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মেনেই এতদিন যে সব দুষ্কৃতীরা ফলতার সাধারণ মানুষের উপরে অকথ্য অত্যাচার করেছে, তাঁদের শাস্তির সুনিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই জাহাঙ্গির খান–সহ বহু দুষ্কৃতীকে জেলে পোরা হয়েছে।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফলতার ফতেপুর স্কুল মাঠে যে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে, সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের সরকারি সুবিধা প্রদান করা হবে। শিবিরটি চলবে ১৫ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘২৪ তারিখের পর ফলতায় স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। আমরা ফলতাকে নতুন করে গড়ে তুলব। ফলতার বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের প্রচণ্ড সমস্যা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠক হয়েছে।দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।’
জাহাঙ্গিরের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, জাহাঙ্গির ও তাঁর পরিবারের লোকেদের নামে রাজ্যের বাইরেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। সেগুলোর খোঁজ চলছে। শুধু সম্পত্তি নয়, তাঁর অনুগামীরাও চার থেকে পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। সেগুলিকেও ফেরত দিতে বলা হয়েছে।’