এই সময়: তৃণমূলের কালীঘাট নেতৃত্ব কি ‘হাত’ ধরবেন? এ নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হলেও শুক্রবার দিল্লিতে সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আচমকা এআইসিসি–র তরফে বাংলায় প্রদেশ কংগ্রেসের ইনচার্জ গুলাম মিরের পর্যবেক্ষণ, অতীতে যাঁরা কংগ্রেস ভেঙে পৃথক দল গঠন করেছেন, তাঁদের ঘরওয়াপসি করা উচিত।
একটি সংবাদসংস্থাকে শনিবার গুলাম মির বলেছেন, ‘কংগ্রেস দেশের প্রাচীনতম দল। যাঁরা কংগ্রেস থেকে কখনও ক্ষুব্ধ হয়ে, নারাজ হয়ে, পৃথক দল, পৃথক দুর্গ তৈরি করেছিলেন, তাঁদের সবার জন্য এটা সোনার সুযোগ। তাঁদের কংগ্রেসে মিশে যাওয়া প্রয়োজন। তাঁদের রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মানতে হবে। তবেই বিভাজনের শক্তিকে পরাজিত করা যাবে।’ কেসি বেণুগোপাল বা জয়রাম রমেশরা যেখানে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সেখানে গুলাম পরোক্ষে কেন কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন, তা নিয়ে বিধান ভবনের প্রবীণ নেতারা বিস্মিত।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হওয়ায় অধীর চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নান–সহ কংগ্রেসের একদল প্রবীণ নেতা একযোগে তৃণমূলনেত্রীকে আক্রমণ করেন। কংগ্রেসের এই নেতারা হাতের সঙ্গে জোড়াফুলের সংযুক্তির যে বিরোধী, তা খোলাখুলি তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এআইসিসি–র সদস্য বাংলার এক কংগ্রেস নেতার কথায়, ‘বেণুগোপাল ব্যাখ্যা দেওয়ার পরে গুলাম মির কেন এই ধরণের মন্তব্য করছেন, তা উনিই বলতে পারবেন। মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরে যেখানে কংগ্রেসের জনভিত্তি রয়েছে, সেখানকার কোনও নেতা কংগ্রেসে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার পক্ষপাতী নন।’ কালীঘাটও এই নিয়ে জল্পনা বাড়াতে রাজি নয়। তৃণমূলের জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি ডেরেক ও’ব্রায়েন শনিবার একটি সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, ‘এই ভুয়ো খবর ছড়ানো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কেসি বেণুগোপাল যে কথা বলেছেন, সেটাই সঠিক।’