• বহরমপুর পুরসভায় দুর্নীতির তদন্তে বাধা পদ্মের একাংশের, দাবি অধীরের
    বর্তমান | ১৪ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। কিন্তু, বহরমপুর পুরসভায় দুর্নীতি নিয়ে কোনো তদন্ত হচ্ছে না। এমনই অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। বিজেপির একাংশের মদতেই তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে-এমনই দাবি করলেন তিনি।

    দিল্লি থেকে ফিরে শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অধীরবাবু। সেখানে তিনি বলেন, সমস্ত পুরসভায় দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। বহরমপুর পুরসভায় দুর্নীতি পাওয়া যাচ্ছে না। এটা খুবই রহস্যজনক। এখানকার পুরসভায় কী চুরি হয়েছে, সেটা সবাই জানে। বিজেপি নেতারাও জানেন। কিন্তু, বহরমপুরে বিজেপির একাংশ এই পুরসভাকে মদত দিয়ে চলেছে। তাদের মদতেই পুরসভার নেতারা দুর্নীতি করেও বুক ফুলিয়ে ঘুরছে।

    এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। মমতা গুঁতোয় পড়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ছুটেছেন বলে অধীর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মমতা নিপুণভাবে রবীন্দ্র সংগীত বাজিয়ে চুরি করতেন। আর খোকাবাবু ডিজে বাজিয়ে চুরি করেছেন বলেই জানাজানি হয়ে গিয়েছে। আগের সরকারের সবচেয়ে বড় চোর তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    অধীরের আক্রমণ থেকে বাদ যাননি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিরাও। তিনি বলেন, এখন তৃণমূলের সবাই বলছে, অভিষেকের জন্য সমস্যা হয়েছে। কিন্তু কেউ এটা বলছে না যে, অভিষেককে সরিয়ে দিলে আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আবার তৃণমূল পার্টিটা করব। বিধানসভা ও লোকসভায় আলাদা আসন চাইব না। এই নাটক বন্ধ হোক।

    হরমুজে মার্কিন হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের প্রাণ হারানোর প্রসঙ্গ তুলে অধীরবাবু এদিন মোদি সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ৫৬ইঞ্চি ছাতিওয়ালা স্বঘোষিত বিশ্বগুরু আমেরিকার নিন্দা করতে পারেন না। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে এটাই তাঁর ফারাক। ইন্দিরা আমেরিকার সপ্তম নৌবহরকেও পাত্তা দেননি। আর আজ আমাদের তিন নিরীহ নাবিক প্রাণ হারালেন। পালটা বিজেপি নেতা লাল্টু দাস বলেন, অধীরবাবুর অগাধ জ্ঞান। তবে কংগ্রেসের আমলে ভারতের বিদেশনীতি কোন তলানিতে ঠেকেছিল, সেটা উনি ভুলে যাচ্ছেন। আজ ভারত অন্য শক্তিধর রাষ্ট্রের সামনে মাথা উঁচু করে চলে। উনি এসব না বলে বরং নিজের পার্টির কথা ভাবুন। বহরমপুর পুরসভায় দুর্নীতির সঠিক তদন্ত আমিও চাই। বিজেপির কোনো নেতা-মন্ত্রী এধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। কেউ প্রশ্রয় দিলে দুর্নীতিবাজ তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁকেও জেলে পাঠানো হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)