• লোকসভার পর বেড়েছিল জাল নথি তৈরি করে সরকারি জমি বিক্রি, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সহ প্রভাবশালীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
    বর্তমান | ১৪ জুন ২০২৬
  • রাজদীপ গোস্বামী, শালবনী: একসময় ওই জমিতে সরকারি প্রকল্প, শিল্প কিংবা জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো গড়ে ওঠার কথা ছিল। সেই জমিই কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সরকারি জমি বেদখল এবং জাল নথি তৈরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মাথা হিসাবে মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার নাম উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই শালবনী থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। তবে, লোকসভা ভোটের পর এই চক্র অতীব সক্রিয় হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়ককে জেরা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই সূত্রে তদন্তকারীরা তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়ের খোঁজ করছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, জমির নথি তৈরি এবং প্রভাবশালীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্তকারীদের দাবি, শুধু জমি নয়, বালির কারবারের সিন্ডিকেটেও জেলার একাধিক প্রভাবশালী নেতার নামও উঠে আসছে। জমি বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তাঁরা। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনী থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার পথে সীতারামপুর এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে তিনটি মৌজায় প্রায় ৬০০বিঘা সরকারি জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। করোনার সময় থেকেই সরকারি জমি জাল নথির মাধ্যমে বিক্রি জোরকদমে চলতে থাকে। প্রথমে জমির দালালরা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। দরদাম চূড়ান্ত হওয়ার পর মাঠে নামত সিন্ডিকেটের প্রভাবশালীরা। অধিকাংশ লেনদেন নগদ টাকায় হত। সরকারি জমি বিক্রির বিরুদ্ধে সরব হলে এখানে শিল্প হবে, কর্মসংস্থান হবে, এই জাতীয় কথা বলে সিন্ডিকেটের লোকজন বিষয়টি চাপা দিয়ে দিত। কর্মসংস্থানের আশ্বাস পেয়ে অনেকে চুপ হয়ে যেতেন। 

    স্থানীয়দের দাবি, শুধু মেদিনীপুর নয়, খড়্গপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় একই ধরনের জমি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মী বা আধিকারিকদের একাংশ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় শালবনী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শেখ ইমরান। তিনি বলেন, আমি সুজয় হাজরার হাতে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, একই জমি আমার থেকে দেড়গুণ বেশি দামে অন্য একজনকে বিক্রি করা হয়েছে। আমার কাছে সমস্ত লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে। এখনও প্রায় ৬০-৭০বিঘা জমি ঘেরা চলছে। ২০২৪সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এই কাজ আরও বেশি করে হচ্ছে। 

    তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, কেউ দোষ করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে। মেদিনীপুরের বিধায়ক বিজেপির শংকর গুছাইত বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সরকারের এবং মানুষের সম্পত্তি যারা লুট করেছে তারা রেহাই পাবে না। 
  • Link to this news (বর্তমান)