১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতিগত শংসাপত্রের যাচাই শুরু, ইস্যু হয়েছিল ২০১১ সাল থেকে, জারি কড়া নির্দেশিকা
বর্তমান | ১৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া প্রতিটি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ের কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পরই পূর্বতন সরকারের আমলের প্রতিটি শংসাপত্র পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করল অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর। সংশ্লিষ্ট অস্কার পোর্টালে এ সংক্রান্ত একটি নতুন মডিউল চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২০১১ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত জাতি শংসাপত্রকে ধাপে ধাপে যাচাইয়ের আওতায় আনা হবে। এরপর মাঠ পর্যায়ে তদন্ত চালিয়ে নথি পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সূত্রের খবর, ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৬৯ লক্ষ জাতি শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে রাজ্যে।
রাজ্যের জারি করা এসওপিতে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমস্ত নথি যাচাই করে পোর্টালে রিপোর্ট আপলোড করতে বলা হয়েছে। কোনো শংসাপত্র ভুয়ো প্রমাণিত হলে সেটি অবিলম্বে বাতিল করার অর্ডার জারি করে তা পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্লক ও মহকুমা স্তরে তদন্তকারী আধিকারিকদের নামে পৃথক লগ-ইন তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আধিকারিকরাই মাঠপর্যায়ে যাচাই করে রিপোর্ট আপলোড করবেন। ব্লক থেকে রাজ্যস্তর পর্যন্ত পুনর্যাচাইয়ের অগ্রগতি নিয়ে এমআইএস রিপোর্ট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভুয়ো শংসাপত্র যাঁদের কাছে পাওয়া যাবে এবং বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে, তার পৃথক তালিকা তৈরি করা হবে।
একই সঙ্গে সম্প্রতি ডায়মন্ডহারবার, রানাঘাট, বসিরহাট, মালদহ এলাকার একাধিক জাতি শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি কড়া হাতে দেখতে বলা হয়েছে। সেই কারণেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সম্পূর্ণ নতুন করে পোর্টালে লগ-ইন করতে বলা হয়েছে।