• এক দশক আগের কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ কোম্পানির হাত ধরেই নয়া বন্দরের স্বপ্নপূরণের পথে বাংলা
    বর্তমান | ১৪ জুন ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি সম্ভব নয়। তাই কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের সঙ্গে নবান্নে বৈঠকের পর তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়ে এই বন্দর তৈরির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণা অনুযায়ী দরপত্র ডেকে বন্দর নির্মাণকারী সংস্থা ঠিক করতে মাঠে নেমে পড়ল নবান্ন। তবে তার আগে এলাকা পরিদর্শন করে ‘টেকনিক্যাল ইকনমিক ফিসিবিলিটি সার্ভে (টিইএফআর)-এর কাজ শুরু হতে চলেছে। আর এসবের জন্য এক দশকের পুরানো কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ কোম্পানির হাত ধরেই নয়া বন্দরের স্বপ্নপূরণের পথে হাঁটছে বাংলা। ১০ বছর আগে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে প্রথমে সাগর, তারপর তাজপুর বন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময়ই কেন্দ্র এবং রাজ্য হাত ধরাধরি করে তৈরি হয় যৌথ কোম্পানি ‘ভোরসাগর পোর্ট লিমিটেড’। পরবর্তীতে কেন্দ্রের সঙ্গে চরম সংঘাতে পৌঁছায় রাজ্যের সম্পর্ক। বাস্তবায়ন থেকে বহু দূরে চলে যায় দু’টি প্রকল্পই। স্বাভাবিকভাবেই যৌথ বা জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানিটির গুরুত্বও কমে যায়। তবে নানা ইস্যুতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে ছেদ পড়লেও প্রশাসনিক স্তরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল এই যৌথ কোম্পানিকে। এবার বাংলার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার দাদনপাত্রবাড়ে বন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেই ‘ভোরসাগর পোর্ট লিমিটেড’-ই হাতিয়ার রাজ্যের। 

    রাজ্যের প্রশাসনিক মহল আশাবাদী, বাংলায় পালাবদলের পর দাদনপাত্রবাড়ে নয়া বন্দর প্রকল্পে কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে যৌথ কোম্পানির মাধ্যমে কাজ এগলে প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলেই মত অভিজ্ঞ আমলাদের। জানা গিয়েছে, তৎকালীন সময়ে এই যৌথ কোম্পানি তৈরির চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রের (কলকাতা বন্দর) ভাগ ৭৪ শতাংশ। বাকি ২৬ ভাগ রাজ্যের। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রাজ্যের ভাগ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র এবং রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক শীর্ষ মহলের আলোচনার উপর নির্ভর করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, সব থেকে আগে টিইএফআর সার্ভে প্রয়োজন। এনিয়ে শীঘ্রই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজ্যের আধিকারিকরা। কী এই টিইএফআর সমীক্ষা? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি হল প্রযুক্তিগত-অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমীক্ষা। এর মাধ্যমে কোনো প্রস্তাবিত প্রকল্প বা বিনিয়োগ বৈজ্ঞানিকভাবে কতটা সম্ভব, বাস্তবিকভাবে কতটা কার্যকর এবং আর্থিকভাবে কতটা লাভজনক, সেই মূল্যায়ন করা হয়। 

     
  • Link to this news (বর্তমান)