পুরসভার নথি পোড়ানোর সময়ই ধরা পড়লেন চেয়ারম্যান, গ্রেপ্তার
বর্তমান | ১৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজের বাড়ির বাগানে পোড়ানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন অশোকনগর পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত চত্বরে ঢোকার মুখে চরম ক্ষোভের মুখে পড়েন চেয়ারম্যান। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ডিম বৃষ্টি’ করেন স্থানীয়রা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রবোধবাবু। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে প্রবোধবাবুর বাড়ির পিছনের বাগানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। বেরতে থাকে তীব্র পোড়া গন্ধ। প্রতিবেশীরা বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কেউ বেরিয়ে আসেননি। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। বেশ কিছু সময় পর সামনে আসেন প্রবোধবাবু। দাবি করেন, শুকনো পাতা পোড়ানো হচ্ছে। ততক্ষণে খবর পেয়ে বিজেপির মহিলা কর্মীরা বাগানের ভিতর ঢুকে পড়েন। দেখা যায়, শুকনো পাতা নয়, জ্বলছে পুরসভার নথিপত্র এবং ফাইল। তড়িঘড়ি জল ঢেলে আগুন নেভান স্থানীয় মহিলারা। উদ্ধার হয় বেশ কিছু আধপোড়া নথি। খবর দেওয়া হয় অশোকনগর থানায়। গভীর রাতে পুলিশ এসে সেই আধপোড়া কাগজ, নথি বাজেয়াপ্ত করে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রবীণ সিপিএম নেতা সত্যসেবী কর বলেন, আগে কখনও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। দুর্নীতির দায়ে কোনো কাউন্সিলার বা চেয়ারম্যান অশোকনগরে কখনও গ্রেপ্তার হননি। এটা অশোকনগরের মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জার।
অন্যদিকে, অশোকনগর ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি রিঙ্কি সুরের অভিযোগ, পুরসভার কর্মী নিয়োগ, আবাস যোজনা, জমির দলিল কিংবা ট্যাক্সের কাগজ পুড়িয়ে আসলে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ঢাকতে চাইছিলেন চেয়ারম্যান। ওঁর সঙ্গে পুরসভার আরও অনেক কাউন্সিলার যুক্ত আছেন। আমরা প্রত্যেকের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এদিকে, চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। ধৃতকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছিল, তখন লাড্ডু বিলি করতে দেখা যায় তাঁদের। অন্যদিকে চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারের বিরুদ্ধে জোর করে সম্পত্তি হাতানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর ভাগ্নে সৈকত দে।