৩২ বছর বাদে আলোকসজ্জা বিভাগে পুরস্কৃত বাংলা, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পেলেন কারা
প্রতিদিন | ১৪ জুন ২০২৬
শুক্রবার রাতেই প্রকাশ্যে এসেছে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা। পাশাপাশি উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কারে সম্মানিতদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানেই দেখা গেল, লোকশিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে উজ্জ্বল বাংলার মুখ। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে মোট ১০৮ জনের নাম আকাদেমি পুরস্কার প্রাপক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তালিকাতেই জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার বেশ কয়েকজন শিল্পী। পুরুলিয়ার দু’জন ছৌ শিল্পীর পাশাপাশি বাজিমাত করেছেন দীনেশ পোদ্দার। তিন দশক বাদে যিনি আলোকসজ্জা বিভাগে বাংলাকে পুরস্কার এনে দিয়েছেন।
২০২৪-২৫ সালের জন্য সঙ্গীত, নৃত্য ও অন্যান্য শিল্পকলায় ১০৮ জন শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ছৌ নৃত্য বিভাগে নৃপেন সহিস, অন্যদিকে ২০২৫ সালের ছৌ লোকনৃত্যে এই পুরস্কার পাচ্ছেন সোমনাথ। এছাড়াও গানে আকাদেমি পুরস্কার (২০২৪) পাচ্ছেন সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় (তবলা), প্রভাতী মুখোপাধ্যায় (সুগম সঙ্গীত)। থিয়েটার জগতে লাইটিংয়ের জন্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দীনেশ পোদ্দার। উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার (২০২৫) পাচ্ছেন ওভারঅল বিভাগের পারফর্মিং আর্টস (থিয়েটার)-এ, সায়ক মিত্র এবং আকাশ মল্লিক। যা কিনা সংস্কৃতিজগতে নিঃসন্দেহে গর্বিত করেছে বাংলাকে। আকাদেমি
উল্লেখ্য, ৩২ বছর পর মঞ্চে আলোক নির্দেশনার ক্ষেত্রে বাংলা থেকে কেউ সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পেলেন। তিনি দীনেশ পোদ্দার। দেশ-বিদেশে থিয়েটারজগতে আলোকসজ্জার জন্য বহুল প্রশংসিত হয়েছেন তিনি বহুবার। শেষবার ১৯৯৪ সালে বাংলা থেকে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন কনিষ্ক সেন। তার আগে ১৯৭৪ সালে আলোকসজ্জার জন্য আকাদেমি পুরস্কার পান তাপস সেন। ভারতের সংস্কৃতি জগতে এই পুরষ্কার মর্যাদাপূর্ণ। আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পুরস্কৃতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
দীনেশ ১৯৯৫ সাল থেকে মঞ্চে আলোকসজ্জার কাজ শুরু করেন। শ্যামানন্দ জালানের পদাতিক ডান্স সেন্টারের সঙ্গে প্রথম বড় কাজ। আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্তরে প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি শোয়ে আলোর কাজ করেছেন। ৫০টির বেশি বিখ্যাত নাটকে উনি আলোর কাজ করেছেন। কলকাতার খ্যাতনামা ৭০-৮০ পুজোয় আলোকসজ্জার কাজ করেছেন। দক্ষিণ কলকাতার লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা দীনেশ পোদ্দার জানালেন, “এটা ঈশ্বরের অবদান। আমি মনের আনন্দে কাজ করি। এই পুরস্কার বাংলার জন্যে। বাংলাকে এই পুরস্কার এনে দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমার সঙ্গে যেসমস্ত সহশিল্পীরা কাজ করেন, তাঁদেরও অনেক অবদান রয়েছে আমার ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বাংলায় যে আবার ৩২ বছর বাদে এই পুরস্কার এল, এটাই আমার কাছে পরমপ্রাপ্তি।”