কলকাতা, 13 জুন: উত্তর কলকাতার এক পুরনো পাড়া ৷ একটা সাধারণ দেওয়াল, একজন একগুঁয়ে বৃদ্ধ এবং পাড়ার প্রতিদিনের জীবন- এই তিনের সংঘর্ষে তৈরি হয় এমন এক গল্প, যেখানে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর মানবিক প্রশ্ন। আসছে বাংলা সিনেমা 'এখানে প্রস্রাব করিবেন না'। শুধু উত্তর কলকাতা কেন, কলকাতার সব প্রান্তে গেলেই এমন নির্দেশিকা দেওয়ালে দেওয়ালে। তাতেও কি মানুষের বোধোদয় হয়? বিরত থাকেন কেউ নিজের স্বভাব থেকে? মূলত এই দিকটাই তুলে ধরা হবে এই ছবিতে, নানা ঘটনার নিরিখে।
এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন রাজতাভ দত্ত। তাঁর চরিত্রের নাম নির্মল ভট্টাচার্য। সে একজন একগুঁয়ে, অভিমানী বৃদ্ধ, যে কিনা নিজের ভগ্নপ্রায় বাড়ির সামনের দেওয়ালকে রক্ষা করতেই প্রতিদিন এক অদ্ভুত যুদ্ধে নেমে পড়ে। গল্পের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পাড়ার বখাটে অথচ প্রাণখোলা যুবক বাবলা, যাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন সায়ন ঘোষ। তার উপস্থিতি গল্পে আনে হাস্যরস, অস্থিরতা এবং এক ধরনের অনিশ্চিত মানবিক সংযোগ, যা ধীরে ধীরে নির্মলের কঠোর মনোভাবকে নাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, নির্মলের জীবনের সবচেয়ে কাছের কিন্তু জটিল সম্পর্কের চরিত্র মিনতি, যাকে দেখা যাবে বৈশাখী রায়ের অভিনয়ে। মিনতি একদিকে কাজের মেয়ে, অন্যদিকে নির্মলের একাকীত্বের নীরব সাক্ষী। তার সঙ্গে নির্মলের সম্পর্কেই লুকিয়ে আছে গল্পের আবেগঘন স্তর। একটি দেওয়াল, একটি নিষেধাজ্ঞার বাক্য- "এখানে প্রস্রাব করিবেন না"- আর তার চারপাশে গড়ে ওঠা মানুষের আচরণই এই কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। হাস্যরসের আড়ালে ধরা পড়ে একাকীত্ব, অভিমান এবং শহুরে জীবনের অদ্ভুত বাস্তবতা।
গল্পটি প্রযোজনা করেছে 'ইডিয়টস বক্স'। পরিচালনায় সৌভিক ভট্টাচার্য। গল্প লিখেছেন সৌরভ মালাকার, চিত্রনাট্য ও সংলাপে তাঁর সঙ্গে যুক্ত সপ্তর্ষি ঘটক। চিত্রগ্রহণে আছেন সুদীপ্ত মজুমদার, সম্পাদনায় গৌরবময় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঙ্গীত ও আবহে শুভদীপ মজুমদার। নির্বাহী প্রযোজক সৌম্য সেনগুপ্ত ।