মিটারে কারচুপি! বেনিয়াপুকুরে ৩ দোকানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বর্তমান | ১৪ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মসনদে বসে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নিশানায় ছিল কলকাতার মোমিনপুর, একবালপুর, বেনিয়াপুকুর, পার্ক সার্কাস চত্বর। সরকার বদলাতেই এবার এই এলাকাগুলিতে বেআইনি বিদ্যুতের মিটার ও বিদ্যুতের মিটারে কারচুপির তত্ত্বতালাশ শুরু করল সিইএসসি। তাতেই অনুসন্ধানকারীদের হাতে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার একটি গলির তিনটি দোকানে বিদ্যুতের মিটারে গরমিলের হদিশ মিলেছে। তিন দোকানের রসিদ মিলিয়ে বছরে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার দুর্নীতি ধরা পড়েছে। ইতিমধ্যে বেনিয়াপুকুর থানায় তিনটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে সিইএসসি। তিনটি দোকানের মিটার বাজেয়াপ্ত করেছে তারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, দোকান তিনটি বেনিয়াপুকুরের মফিদুল ইসলাম লেনে অবস্থিত। গত ১ বছর ধরে এই তিন দোকানের মালিক মিটারে কারচুপি করছিলেন বলে অভিযোগ। সিইএসসি অভিযোগপত্রে পুলিশকে জানিয়েছে, ডোমেস্টিক মিটারকে বাণিজ্যিক উপায়ে ব্যবহার করছিলেন দোকানের চারজন মালিক। তাঁদের নাম জামাল হুদা, নেহাল হুদা, হেতাল হুদা ও রেহাত হুদা। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার অভিযোগ, গত একবছর ধরে নিজের বাড়ির মিটার থেকে ট্যাপ করে দোকান চালাচ্ছিলেন তাঁরা। এর জেরে প্রতি মাসে ২৩ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছিল বলে অভিযোগ। গত বছরের জুলাই মাস থেকে এই মিটার গড়মিল চলছিল। ১১ জুন বেনিয়াপুকুরের ওই দোকানে হানা দেয় বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার আধিকারিক। সংশ্লিষ্ট দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মিটারটিও।
এই রাস্তায় কয়েক হাত দূরে আরও দু’টি দোকানে হানা দেয় সিইএসসি। সেখানেও চলছিল এক কীর্তি। মফিদুল ইসলাম লেনের আরেক ব্যবসায়ী সাবির আহমেদের খাবারের দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগেও গড়মিলের হদিশ পান অনুসন্ধানকারীরা। গত এক বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৫ হাজার বিদ্যুতের বিল কারচুপি করেছেন বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধেও ইলেকট্রিসিটি আইন মাফিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। তবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ কারচুপিতে অভিযুক্ত তানভির আক্রাম। তিনি প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৪৮০ টাকার বিদ্যুৎ বিনা পয়সায় ভোগ করছিলেন। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কারচুপি করছিলেন বলে দাবি সিইএসসি। তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা রুজু হয়েছে।