• World Blood Donor Day 2026: রক্তদান করলে মাসিকে সমস্যা হয়? জানুন সত্যিটা
    এই সময় | ১৪ জুন ২০২৬
  • রক্তদানের জন্য বহু সুস্থ মানুষ এগিয়ে আসতে চান, কিন্তু কিছু ভুল ধারণার কারণে ভয় পেয়ে আবার পিছিয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের মিথ আজও বহু জীবনরক্ষাকারী রক্তদানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, ক্যান্সারের চিকিৎসা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজন হয়— আর সেই প্রয়োজন মেটাতে নিয়মিত রক্তদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তদান নিয়ে ভয় এবং ভুল তথ্যই সবচেয়ে বড় বাধা। আসলে রক্তদান নিরাপদ, চিকিৎসক-নিয়ন্ত্রিত এবং পর্যবেক্ষণাধীন একটি প্রক্রিয়া। কোন কোন মিথ আজও রক্তদানের পথে বড় বাধা?

    এটি সবচেয়ে প্রচলিত ভয়। যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এই ধারণা ঠিক নয়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত থাকে এবং দান করা রক্ত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীর নিজেই পূরণ করে নেয়। শুরুতে সামান্য ক্লান্তি লাগতে পারে, তবে পর্যাপ্ত জল পান ও সুষম খাবার খেলে দীর্ঘমেয়াদে কোনও দুর্বলতা হয় না।

    অনেকেই ভাবেন রক্তদানের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। বাস্তবে রক্তদান সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত পদ্ধতিতে করা হয়। প্রতিটি দাতার জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য স্টেরাইল সূঁচ ব্যবহার করা হয় এবং পরে তা ফেলে দেওয়া হয়। ফলে রক্তদানের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তবে কোনও জটিল রোগ নিয়ে কেউ রক্তদান করলে, সেই রোগ যাকে রক্ত দেওয়া হবে তার শরীরেও সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে।

    অনেকে মনে করেন শুধু খুব শক্তিশালী বা অ্যাথলেটিক মানুষই রক্ত দিতে পারেন। এই ধারণাও ভুল। রক্তদানের যোগ্যতা নির্ধারিত হয় ন্যূনতম ওজন, হিমোগ্লোবিন ও মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভিত্তিতে। কেউ যদি নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেন এবং সুস্থ থাকেন, তাহলে সাধারণ ফিটনেস থাকলেই রক্ত দেওয়া নিরাপদ।

    এই ভুল ধারণা বহু মহিলাকে রক্তদান থেকে নিরুৎসাহিত করে। রক্তদান হরমোনের ভারসাম্য বা মাসিক চক্রের উপর কোনও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। সুস্থ মহিলা নির্ধারিত ব্যবধানে নিরাপদে রক্তদান করতে পারেন।

    এটিও আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা। প্রতিবার রক্তদানের আগে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে দায়িত্বশীল ভাবে রক্তদান করলে সাধারণত কোনও রক্তাল্পতা হয় না। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার অভ্যাস গড়ে ওঠে। একবার রক্তদানের ৩ মাসের মধ্যে আর রক্তদান করা উচিত নয়। ৩ মাসের মধ্যে রক্ত শরীর আবার তৈরি করে নেয়। তবে কারও যদি অ্যানিমিয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই রক্তদান করা উচিত।

    রক্তদান একটি নিরাপদ, দ্রুত এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রক্রিয়া। এক ইউনিট রক্ত একাধিক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই ভুল ধারণা দূর করে সচেতনতার সঙ্গে রক্তদান করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অসাধারণ অবদান।

  • Link to this news (এই সময়)