• ট্রেন দেরিতে আসায় লাইনে নেমে বিক্ষোভ পরীক্ষার্থীদের, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাসে রণক্ষেত্র পাটলিপুত্র স্টেশন
    এই সময় | ১৪ জুন ২০২৬
  • সকালে পরীক্ষা। আগেভাগে ট্রেন ধরতে রাতেই পাটলিপুত্র স্টেশনে হাজির হয়েছিলেন কয়েকশ পরীক্ষার্থী। কিন্তু নির্ধারিত ট্রেন দেরিতে আসায় বিক্ষোভের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পাটলিপুত্র স্টেশন। রবিবার ভোরে বিহারের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরে লাঠিচার্জ করে পরীক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ট্রেনে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর জখম হয়েছন কয়েক জন পুলিশ কর্মী।

    বিহার পুলিশে নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে সকালে। পরীক্ষা হবে দু’টি কেন্দ্রে। সময়ে পৌঁছনোর জন্য রাতেই স্টেশনে চলে আসেন পরীক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না আসায় তাঁরা লাইনে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। কেউ কেউ স্পেশাল ট্রেনের দাবিও জানান। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পাল্টা পাথর ছুড়তে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের একাংশ। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি ট্রেন। পাথরের আঘাতে কয়েক জন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় লাঠিচার্জ। অবরোধ তুলতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় স্টেশন চত্বর। পাটনার ডিএম ড. ত্যাগরাজন বলেন, ‘দুটি বিশেষ ট্রেন আগে থেকেই ছিল। তবুও কয়েক জন নতুন ট্রেনের দাবিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছিলেন। যাত্রীদের যাতায়াতেও বাধা দিয়েছেন তাঁরা।’

    তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি মেনে আরও একটি বিশেষ ট্রেন দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি বলে অভিযোগ। কিছু ‘অসামাজিক উপাদান’ বারবার ইমার্জেন্সি চেইন টেনে ট্রেন আটকে দেয় বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি। তখনই লাঠিচার্জ করে পরীক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। পাটনার ডিএমের কথায়, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ট্রেনগুলিও গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।’

    বিক্ষোভের জেরে বেশ কয়েকটি লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেন আটকে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ। পাটলিপুত্র স্টেশনে হামলার পিছনে শুধু পরীক্ষার্থীরাই রয়েছেন, নাকি তাঁদের ঢাল করে নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে অন্য কেউ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্টেশনের সিসিটিভি এবং অন্যান্য ফুটেজও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)