নীলাঞ্জন দাস, রায়গঞ্জ
বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই রায়গঞ্জের কুলিক পাখিরালয়ে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিরা। সাধারণত প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে মে-র শেষ এবং জুনের শুরু থেকে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটে এই পক্ষীনিবাসে। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পক্ষীনিবাস হিসেবে পরিচিত কুলিকে সেন্সাস অনুযায়ী বিগত বছরগুলিতে পাখির সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা নিয়ে পরিবেশপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের অন্ত নেই। এ বার যদি পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পায়, তা হলে সেটা কুলিক তথা রায়গঞ্জের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হবে বলে মনে করছেন জেলার প্রকৃতিপ্রেমীরা।
মোট ১.৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পাখিরালয়ে মূলত ওপেন বিল স্টর্ক, করমর্যান্ট, ইগ্রেট ও নাইট হেরন- এই চার প্রজাতির পাখি লক্ষ্য করা যায়। যদিও ২০২৩ থেকে গ্লসি আইবিস প্রজাতির পাখিরও দেখা মিলছে এখানে। ছ'-সাত মাস এখানে প্রজনন এবং শাবক প্রতিপালন করে পাখিরা। তার পরে নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ তারা পাড়ি দেয় ভিনদেশে। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মেই কুলিকে পাখিদের আসাযাওয়া চলছে। বন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরে কুলিকে পাখির সংখ্যা বেড়েছে।
২০২৪-এ পাখির সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৭১৯টি। যার মধ্যে ওপেন বিল স্টর্ক ৭১,০২২টি, নাইট হেরন ৩,০২১, ইগ্রেট ১৬,২৮২, করমর্যান্ট ৬,১৪৩ এবং গ্লসি আইবিসের সংখ্যা ছিল ২৫১টি। ২০২৫-এ পাখির সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৫৮টি। যার মধ্যে ওপেন বিল স্টর্ক ৬৯,৫৫৮টি, নাইট হেরন ৩,৫৫৭টি, ইগ্রেট ১৫,৪৮৬, করমর্যান্ট ৯,৯৫১ এবং গ্লসি আইবিসের সংখ্যা হয় ১,৫০৬টি। এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ এবং কুলিকের পরিবেশ পাখিদের জন্য যথেষ্ট অনুকূল হওয়ায় পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী পরিবেশপ্রেমী এবং বনাধিকারিকরা। পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যটকদেরও আরও বেশি করে আকর্ষণ করবে বলে মনে করছেন তাঁরা। রায়গঞ্জের একটি পশুপ্রেমী সংস্থার কর্ণধার গৌতম তান্তিয়া বলেন, 'এ বছর পাখিদের জন্য পরিবেশ অনুকূল। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বার কুলিকে পাখির সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে।' উত্তর দিনাজপুর জেলা বনাধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, '১০-১৫ দিন আগে থেকে পাখি আসা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জলাশয়গুলি পরিষ্কার করে মাছ, শামুক ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পাখিদের অনুকূলেই রয়েছে।'