সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া
এক–আধ বছর নয়। নিজের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন নিয়ে এক যুগ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক সাইকেল–মিস্ত্রি। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন পুরুলিয়ার লৌলাড়া গ্রামের কৃষ্ণ বাউড়ি। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পুঞ্চার বিডিও–সহ একাধিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার কৃষ্ণ বলেন, ‘২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছি আমরা। আগের সরকারের আমলে একাধিক বার জনপ্রতিনিধিদের ও বিদ্যুৎ দপ্তরকে জানিয়েও লাভ হয়নি। এ বার হয়তো বিদ্যুৎ পাব।’ নিজের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে কৃষ্ণ জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ না–থাকায় এখনও রাতে লন্ঠন জ্বালাতে হয় তাঁদের। কখনও বা কাজ করতে হয় মোমবাতি বা কুপি জ্বেলে। এতে তাঁর সন্তানদের প্রবল সমস্যা হয় লেখাপড়ার ক্ষেত্রে। ব্যবহার করতে পারেন না কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্র।
কৃষ্ণর আবেদন পাওয়ার কথা জানিয়ে পুঞ্চার বিডিও দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এর আগে আমাকে মৌখিক ভাবে জানানো হলেও লিখিত আকারে জানানো হয়নি। এ বার হয়েছে। অতি দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্য দিকে, মানবাজার বিধানসভার বিধায়ক ময়না মূর্মু বলেন, ‘উনি আমাকে মৌখিক ভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। কেন এত দিন বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ প্রসঙ্গে ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর পুরুলিয়ার রিজিওনাল ম্যানেজার রজত টিকাদার বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির বাড়িতে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে প্রতিবেশীর সঙ্গে। দীর্ঘদিনের সমস্যা।’ তাঁর দাবি, ‘এ নিয়ে ওই ব্যক্তি আগে যোগাযোগ করেননি। তার নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেই সংযোগ দেওয়া যাবে।’