ভবানী ভবনে পৌঁছলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে সিআইডি তলবে দ্বিতীয় বার হাজিরা দিলেন অভিষেক। বিধানসভায় সই বিতর্ক মামলায় রবিবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। দুপুর ১২টার মধ্যে ডাকা হলেও পৌনে ১২টার মধ্যেই তিনি পৌঁছে যান। ভিজিটর্স বুকে সই করে ভিতরে ঢোকেন তিনি।
এর আগে গত ১১ জুন ভবানী ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিআইডির কর্তারা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সে দিন ভবানী ভবনে হাজিরা দেন তিনি। আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, সিআইডিকে তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে।
সে দিন সন্ধে ৬টার আগেই পৌঁছন সিআইডির দপ্তরে। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ সেখান থেকে বের হন। বেরিয়ে সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। আজও সময়ের আগেই পৌঁছে গিয়েছেন ভবানী ভবনে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখান থেকেই এই সই বিতর্কের সূত্রপাত। গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বোসকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় চিঠি লিখে জানান, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া হচ্ছে। ১৮ মে বিধানসভার প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এ সংক্রান্ত মিনিটস বা রেজ়োলিউশন জমা দেওয়ার জন্য চিঠি দেন।
২০ মে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রেজ়োলিউশনের একটি কপি পাঠান, ৭০ জন MLA-র সই করা তাতে। রেজ়োলিউশনের কপিতে ব্লক লেটারে ১০ জনের নাম লেখা ছিল। এর পরে ২৭ মে দুই MLA ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারকে অভিযোগ জানান যে রেজ়োলিউশনে যাঁদের সই রয়েছে, তাঁদের অনেকে সেদিন কালীঘাটের মিটিংয়ে ছিলেনই না। প্রশ্ন ওঠে, তা হলে সই কি নকল করা হলো? দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান। তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।
তদন্তে নেমে অভিষেককে তিন বার নোটিস পাঠায় সিআইডি। তাঁর কালীঘাট রোডের ঠিকানায় গিয়ে সেই নোটিস দেওয়া হয়। তবে তিনি হাজিরা দেননি। সিআইডির নোটিস চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান। যদিও আদালত তাঁকে তদন্তে সব রকম সহযোগিতার নির্দেশের পাশাপাশি হাজিরা দিতেও বলে। এর পরেই প্রথমে ১১ জুন এবং এর পরে আজ, ১৪ জুন ভবানী ভবনে গেলেন অভিষেক।