মাছের বদলে জালে উঠল গুলি-বন্দুক-আগ্নেয়াস্ত্র! হাবড়র পুকুরেই অস্ত্রভাণ্ডার, তদন্তে পুলিশ
News18 বাংলা | ১৪ জুন ২০২৬
মাছ ধরার জালে মাছ নয়, পুকুর থেকে উঠে এল আগ্নেয়াস্ত্র৷ ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়ায়৷ সূত্রের খবর অনুযায়ী, একাধিক বন্দুক ও প্রচুর গুলি উদ্ধার করা হয়েছে পুকুর থেকে৷
জানা গিয়েছে, হাবড়ার কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কলতলা বিশ্বাস পাড়া এলাকায় একটি পুকুরে মাছ ধরতে আসে জেলেরা৷ মাছ ধরার সময় হঠাৎই পায়ে বাধে একটি ব্যাগ৷ ব্যাগটি জল থেকে তুলতেই দেখা যায়, তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে একাধিক বন্দুক ও প্রচুর গুলি৷ এরপরেই স্থানীয়রা খবর দেয় হাবড়া থানায়।
সূত্রের খবর, পুলিশ এসে ওই সমস্ত অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ধরনের গুলি মিলেছে পুকুরের তলা থেকে৷ এছাড়াও চারটি বন্দুক রয়েছে যে বন্দুক গুলি প্লাস্টিকে মোড়া৷ এলাকায় আরও একাধিক পুকুর রয়েছে৷ স্থানীয়দের সন্দেহ, এই পুকুরগুলোতে তল্লাশি চালালে আরও একাধিক বন্দুক উদ্ধার হতে পারে৷
প্রসঙ্গত, এ মাসের শুরুর দিকে সন্দেশখালিতে ঠিক এভাবেই পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছিল বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র৷ কুমড়াখালি, বাসন্তী এবং সন্দেশখালির সারবেরিয়া বাজার সংলগ্ন একাধিক এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স৷ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়৷ তারপরেই জলের তলা থেকে টেনে বের করা হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র৷ সেই ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷
ওই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘‘দীর্ঘ বছর ধরে পূর্ববর্তী শাসনকালে এই ধরনের বেআইনি অস্ত্র মজুত করা হতো এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রস্ত করার কাজে নির্মমভাবে ব্যবহার করা হত। হিংসার এই সংস্কৃতির ফলে বহু বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, বিশেষ করে অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নিবেদিতপ্রাণ বিজেপি কর্মীরা প্রাণ হারিয়েছেন। সেই অন্ধকার অধ্যায় এখন অতীত। আমাদের সরকার রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্ত থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র খুঁজে বের করে উদ্ধার করার কাজ আমরা অব্যাহত রাখব। অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসবাদকে রাজ্য থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে। রাজ্যে শান্তি, নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্রের পরিবেশ বজায় থাকবে—এই লক্ষ্যেই আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব৷’’