• দিল্লি যাওয়ার আগে কাকলি বললেন, ‘আমি ২০ বলেছিলাম, সেটা আসলে ২২’, কারা এই ২ জন?
    এই সময় | ১৪ জুন ২০২৬
  • দিল্লিতে আজ তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ব্লকের বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে একে একে দিল্লিতে পৌঁছচ্ছেন NDA-তে থাকতে চাওয়া তৃণমূলের সাংসদরা। রবিবার সন্ধেয় এই বৈঠক হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে এই বৈঠক হবে। এর পরে তৃণমূলের এক সাংসদের বাড়িতে ডিনার। এ দিন সকালেই দিল্লির পথে রওনা দিয়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, মালা রায়, সায়নী ঘোষরা। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কাকলি দাবি করেছেন, NDA সমর্থনে থাকতে চাওয়া তৃণমূল সাংসদের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ২২ হতে চলেছে। যদিও এই দু’জন কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বিদ্রোহী সাংসদরা। তার আগে আজ সন্ধেয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দিল্লিতে। ১৪ জন সাংসদের সই দিয়ে যে বিদ্রোহী ব্লকের খাতা খুলেছিল, পরের ধাপে আরও ৫ জন সই করেন। সংখ্যা হয় ১৯। এর পরে শনিবারই দেখা যায়, শতাব্দী রায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে করে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ সাংসদ হিসেবে পরিচিত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও বিদ্রোহী ব্লকে নাম লেখান। ফলে এই মুহূর্তে সংখ্যাটা ২০।

    এ দিনই আবার কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, দেশের ভালো করা, দেশের জন্য কাজ করা। গত ৪-৫ বছরে পশ্চিমবাংলার পরিস্থিতি যে জায়গায় গিয়েছিল আর তার বিরুদ্ধে যাঁরা মত দিচ্ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তালিকায় আরও আছেন। ধরে নিন আরও ২-১ জন আসবেন। আমি ২০ বলেছিলাম, সেটা আসলে ২২। সুতরাং আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

    লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ। তার মধ্যে ২০ জন শিবির বদলে NDA-এর সমর্থনে সই করেছেন। বাকি যে আট জন আছেন, তাঁরা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা হোসেন, কীর্তি আজাদ, সৌগত রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা ও প্রতিমা মণ্ডল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাকলির দাবি যদি সত্যি হয় তা হলে এই আট জনের মধ্যে কোন দু’জন শিবির বদলাতে চলেছেন?

    অন্যদিকে আরও একটি বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা নেতৃত্ব। এ ভাবে একই দল এবং একই প্রতীক নিয়ে দু’টি লবি কি সংসদে থাকতে পারে? লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচার্যের ব্যাখ্যা, ‘তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা আলাদা ব্লক তৈরির কথা বললেও এই ভাবে ব্লক তৈরি করা যায় না। সংসদীয় আইনে একই দলের ভিতরে এমন ভিন্ন ব্লক তৈরির কোনও প্রভিশন নেই। লোকসভায় আলাদা বসতে দেওয়ার দাবিও মূল্যহীন। এর পরিবর্তে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ পেশ করে নিজেদের গোষ্ঠীকেই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করতে পারেন। তখন তাঁদের আইনি স্বীকৃতি মিলতে পারে।’

    তাঁর সংযোজন, ‘এই তৃণমূল সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে। যেমন কিছুদিন আগে আম আদমি পার্টির সাত জন রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন।’

  • Link to this news (এই সময়)