• ঘাসফুল ছেড়েই পদ্মবনে পা বাড়াচ্ছেন মানস ভুঁইয়া!
    আজকাল | ১৪ জুন ২০২৬
  • ইন্দ্রজিৎ সাহু: তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনীতিতে ফের বড় ধাক্কা। গতকাল, শনিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ-সহ সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সবং থেকে কলকাতা, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেসের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মানস ভুঁইয়া। পরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে সেই জল্পনাতেই যেন সিলমোহর দিল তাঁর ইস্তফাপত্র। একসময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, বর্তমান সবংয়ের বিজেপি বিধায়ক অমল কুমার পণ্ডা-র সঙ্গে মানস ভুঁইয়ার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কংগ্রেসের সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন একসঙ্গেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলায়।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুই প্রাক্তন সঙ্গী মুখোমুখি হন। সেই লড়াইয়ে ১১ হাজার ১৩৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মানস ভুঁইয়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই পরাজয়ের পর থেকেই অনেকটাই নীরব হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এবার তাঁর দলত্যাগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে তবে কি বিজেপির পথেই হাঁটতে চলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী? এই জল্পনার মাঝেই কংগ্রেস এবং সিপিএমের পক্ষ থেকে এসেছে কড়া আক্রমণ। প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক চিরঞ্জিব ভৌমিক সরাসরি বলেন, "মামলা থেকে বাঁচতে তৃণমূলে গিয়েছিলেন, এবার আরেক মামলা থেকে বাঁচতে কোথায় যাবেন সেটা দেখার বিষয়। রাজনৈতিকভাবে মানস ভুঁইয়ার মৃত্যু হয়ে গিয়েছে।" অন্যদিকে সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা অমলেশ বোস-এর কটাক্ষ আরও তীব্র। তাঁর দাবি, “সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণেই তিনি দল বদল করেছেন, এবারও সম্ভবত বিজেপিতেই যাবেন।”

    যদিও বিজেপি বিধায়ক অমল কুমার পণ্ডা এদিন অনেকটাই সংযত সুরে বলেন, উনি তৃণমূলে থাকাকালীন দুটি দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। দুঃসময়ে দল ছেড়ে আসাটা ঠিক হয়নি। তবে সবংয়ের রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন এখন একটাই মানস ভুঁইয়ার এই ইস্তফা কি শুধুই রাজনৈতিক অভিমান, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও সমীকরণ? তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কী হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে জেলার আনাচে কানাচে। আর সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনীতি।
  • Link to this news (আজকাল)