আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা গ্রেপ্তার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। বালি পাচার এবং তোলাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সুজয়৷
পুলিশ সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার যখন অভিষেক ব্যানার্জি ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে যান, তখনও সুমিত রায়কে তাঁর সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের নাম জড়াতেই তাঁর খোঁজে সক্রিয় হয় প্রশাসন।
অভিষেক যখন ভবানী ভবনে ঢুকছিলেন, ঠিক তখনই রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স-এর একটি দল সুমিতের খোঁজে সেখানে পৌঁছায়। এরপর সুমিতের খোঁজে শনিবার ভোররাতে সোজা অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। এই অভিযানের খবর পেয়েই তড়িঘড়ি অভিষেকের বাড়ি পৌঁছান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।
কালীঘাটে নিজের বাসভবনে এই নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান এবং গেটের তালা ভাঙার ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দাবি করেন, “আমি কাউকে লুকিয়ে রেখেছি কি না, তা দেখতে আমার পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে।”
ঘটনার পর পুলিশের অফিশিয়াল ‘সিজার লিস্ট’ সামনে আসতেই শোরগোল আরও বেড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হলেও, সেই সরকারি নথিতে স্পষ্ট হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ি থেকে কোনও আপত্তিকর বা সন্দেহজনক কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযান চালানো হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার একটি মামলার (নম্বর: ১৩৩/২৬, তারিখ: ০৫/০৬/২৬) প্রেক্ষিতে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৮ (জালিয়াতি), ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এই মামলার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বর্তমানে জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের৷