আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরিশ চ্যাটার্জি ঠিকানার দিকে নজর এখন সব পক্ষের। প্রায় এক মাসের মাথায় দলের ছন্নছাড়া দশা হলেও, সবকিছু সামলাবার একটা প্রচেষ্টা করছেন খোদ দলনেত্রী। আর ঠিক সেই কারণেই, হরিশ চ্যাটার্জিতে, তাঁর বাসভবনের ঠিকানায় দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। শনিবারও বৈঠক বসে। সেখানে সায়নী, সুদীপদের সরিয়ে অন্যদের ভাঙা দল সামলে তুলতে গুরুদায়িত্ব দেন মমতা। এতদূর সব ঠিক থাকলেও, টুইস্ট নাকি অন্য জায়গায়!
সূত্রের খবর, শনির বৈঠকে, হাঙ্গামা বাঁধে অন্য এক বিষয়ে। জানা গিয়েছে, বৈঠক স্থলেই আচমকা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে দলের সাংসদ, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। যদিও দু'পক্ষের কেউই বাইরে এসে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি।
বিবাদ কী নিয়ে? জানা গিয়েছে, শনির সকাল থেকে কালীঘাটে যে টানটান উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে নিয়ে, তার রেশই ছিল তখনও। অভিষেক নাকি কুণালের পূর্ববর্তী মন্তব্যের রেশ টেনে দাবি করেন, কুণাল তাঁকে এবং সুমিতকে আক্রমণ করেছেন। যদিও সোজা কথার কুণাল সোজা জানিয়ে দেন, তিনি দলের মুখপাত্র। সুমিতের নন। ফলে তিনি অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি জানান নিন্দা করেছেন, থানার কাজ অনুযায়ী। কিন্তু এড়িয়ে গিয়েছেন কুণাল প্রসঙ্গ। তথ্য, তর্ক এতটাই বাড়ে, কল্যাণও নাকি সামলাতে পারেননি পরিস্থিতি। ব্যাটন ধরতে হয় মমতাকেই।
শনিবারের ঘটনার পর অনেকেই বলছেন, এই ছন্নছাড়া অবস্থায় তাহলে কালীঘাট বনাম ক্যামাকস্ট্রিটের যে ফাটল ধরা সমীকরণ বাংলার রাজনীতিতে চর্চা তৈরি করেছিল, তা এখন পুরোটাই স্থানান্তরিত হয়েছে কালীঘাটে। এক ঘরে বসেই, দলকে ভুল ত্রুটি বিচার করে পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার মুহূর্তেও দলের ভিতরে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে প্রবীণদের সঙ্গে বিবাদে জড়াচ্ছেন অভিষেক। কুণালের আগেই যেমন জোর তরজা কল্যাণ প্রসঙ্গে। এমনিতেও তৃণমূলের অধিকাংশ বর্তমান, প্রাক্তন নেতা, অভিষেকের দিকে আঙুল তুলছেন। তাঁরা বারবার দাবি করেছেন, নিজের বলয়ের বাইরে, বাকিদের জাস্ট পাত্তাই দিতেন না অভিষেক। এই অভিযোগকারীদের মধ্যে বড় অংশ প্রবীণ নেতা। ভোটের ফল প্রকাশের পর আরও বেশি করে সামনে আসে ওই ক্ষোভ। সেসবের মাঝেই শনিবারের দুই নেতার বাকি বিতণ্ডা সামনে এল। তাঁরা এই প্রসঙ্গে মন্তব্য না করলেও, রাজনীতিকদের বক্তব্য, এবার মমতা ব্যানার্জিকে, দল বাঁচাতে কড়া হয়েই হবে অভিষেক ইস্যুতে।