ভারতের বুকে ইউরোপীয় ফিল, এই ৫টি অনবদ্য পাহাড়ি ঠিকানা যেন স্কটল্যান্ডের কান্ট্রিসাইড
আজ তক | ১৪ জুন ২০২৬
Mini Scotland Of India: সবুজ পাহাড়ের ঢাল কুয়াশায় মোড়া উপত্যকা পাইন বনের সারি আর কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্কটল্যান্ডের ছবি। তবে পাসপোর্ট বা ভিসার ঝক্কি না পুইয়ে দেশের বুকেই উপভোগ করা যায় এই স্কটিশ আমেজ। ভারতের এমনই পাঁচটি অসাধারণ পাহাড়ি গন্তব্যের হদিশ রইল এই প্রতিবেদনে যেখানে পা রাখলেই মনে হবে আপনি পৌঁছে গিয়েছেন বিদেশের কোনও নামী হাইল্যান্ডে।
১. খাজিয়ার, হিমাচল প্রদেশের
মিনি স্কটল্যান্ডহিমাচল প্রদেশের ডালহৌসি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খাজিয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের মিনি স্কটল্যান্ড বলা হয়। দেওদার বনের মাঝখানে বিশাল সবুজ তৃণভূমি ঘুরে বেড়ানো ঘোড়া আর মেঘের আনাগোনা এখানে। অবিকল স্কটিশ কাউন্ট্রিসাইডের পরিবেশ তৈরি করে।
যাতায়াত ব্যবস্থা: সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হলো ১২০ কিলোমিটার দূরের কাংড়া এবং নিকটবর্তী রেল স্টেশন হলো ৯৫ কিলোমিটার দূরের পাঠানকোট জংশন। ডালহৌসি থেকে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার ট্যাক্সি ভাড়ায় এখানে পৌঁছানো যায়।
থাকা খাওয়ার খরচ
বাজেট হোমস্টেতে প্রতি রাত ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং মাঝারি মানের হোটেলে ২০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা খরচ হবে। বিলাসবহুল রিসোর্টের ভাড়া ৬০০০ টাকার বেশি। খাওয়া দাওয়ার জন্য স্থানীয় ধাবায় প্রতি বেলা ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং ক্যাফেতে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা লাগবে। এখানে এসে হিমাচলি পদ মাদ্রা এবং সিড্ডু চেখে দেখতে ভুলবেন না।
প্রধান আকর্ষণ ও বাজেট
খাজিনাগ মন্দির দর্শন ঘোড়ায় চড়া কালাটোপ ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি ট্রেকিং এবং প্যারাগ্লাইডিং এর সুযোগ রয়েছে এখানে। মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর হলো এখানকার সবুজ রূপ দেখার সেরা সময়। আর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে মেলে বরফ। এখানে মাথাপিছু তিন দিনের আনুমানিক বাজেট ৫০০০ থেকে ২০০০ টাকা।
২ কুর্গ, কর্ণাটক
কর্নাটকের দক্ষিণ ভারতীয় স্কটল্যান্ড দক্ষিণ ভারতের এই পাহাড়ি হিল স্টেশনটি তার ঢেউ খেলানো সবুজ পাহাড় সকালের ঘন কুয়াশা আর মাইলের পর মাইল বিস্তৃত কফি বাগানের জন্য বিখ্যাত যা গ্রামীণ স্কটল্যান্ডের কথা মনে করায়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হলো ৯০ কিলোমিটার দূরের কান্নুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ ছাড়া বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়েও আসা যায়। বেঙ্গালুরু এবং মহীশূর থেকে নিয়মিত বাস পরিষেবা রয়েছে।
থাকা-খাওয়ার খরচ
এখানে বাজেট হোমস্টে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা কফি প্ল্যান্টেশন স্টে ৩০০০ থেকে ৮০০০ টাকা এবং লাক্সারি রিসোর্ট ১০০০০ টাকার বেশি প্রতি রাতে ভাড়া নেয়। ট্র্যাডিশনাল কুর্গ কুজিন যেমন পান্ডি কারি কাদামবুট্টু এবং ব্যাম্বু শুট কারি উপভোগ করতে পারেন। যার বাজেট মিল প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।
প্রধান আকর্ষণ ও বাজেট
এখানকার মূল আকর্ষণ অ্যাবে ফলস রাজা সিট দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প এবং কফি বাগান ভ্রমণ। অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এখানে বেড়ানো সবচেয়ে ভাল। তিন দিনের জন্য মাথাপিছু আনুমানিক খরচ ৭০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা।
৩.আউলি, উত্তরাখণ্ড
উত্তরাখণ্ডের স্কি প্যারাডাইস শীতকালে পুরো বরফে ঢাকা আল্পাইন উপত্যকা আর গরমকালে সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়া আউলির পাইন বন পর্যটকদের স্কটল্যান্ডের উইন্টার লুকের স্বাদ দেয়।
যাতায়াত ব্যবস্থা
এখানকার নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট হলো জলি গ্র্যান্ট এবং রেল স্টেশন হলো ঋষিকেশ। সেখান থেকে প্রথমে জোশীমঠ পৌঁছে রোপওয়ে বা সড়কপথে আউলি পৌঁছানো যায়।
থাকা-খাওয়ার খরচ
বাজেট হোটেলে থাকার খরচ ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং রিসোর্টে ৪০০০ থেকে ১০০০০ টাকা প্রতি রাত। উত্তর ভারতীয় এবং স্থানীয় গাড়োয়ালি খাবারের জন্য প্রতি বেলা খরচ পড়বে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।
প্রধান আকর্ষণ ও বাজেট
আউলি রোপওয়ে স্কিইং গুরসো বুগিয়াল ট্রেক এবং নন্দাদেবী শৃঙ্গের দৃশ্য দেখার জন্য ডিসেম্বর থেকে মার্চ বরফের জন্য এবং এপ্রিল থেকে জুন মনোরম আবহাওয়ার জন্য সেরা সময়। তিন দিনের জন্য মাথাপিছু বাজেট লাগবে ৭০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা।
৪. তাওয়াং, অরুণাচল প্রদেশ
প্রদেশের মেঘলা পাহাড় ও মনাস্ট্রিমেঘে ঢাকা পাহাড় স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হ্রদ আর শান্ত পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা তাওয়াংকে স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডের মতো রূপ দিয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের এখানে যাওয়ার জন্য ইনার লাইন পারমিট বা আইএলপি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
যাতায়াত ব্যবস্থা
তেজপুর বিমানবন্দর কাছে হলেও উন্নত যোগাযোগের জন্য গুয়াহাটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করাই শ্রেয়। সেখান থেকে বোমডিলা এবং দিরাং হয়ে সড়কপথে পৌঁছানো যায়।
থাকা-খাওয়ার খরচ
গেস্টহাউসে থাকার খরচ ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং হোটেলে ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা প্রতি রাত। মনপা ও তিব্বতি খাবারের খোঁজে মোমো ৮০ থেকে ১৫০ টাকা এবং থুকপা ১২০ থেকে ২৫০ টাকায় মিলবে। ফুল মিলের খরচ ২৫০০ থেকে ৫০০ টাকা।
প্রধান আকর্ষণ ও বাজেট
তাওয়াং মনাস্ট্রি সেলা পাস মাধুরী লেক এবং পারমিট সাপেক্ষ বুমলা পাস এখানকার প্রধান দ্রষ্টব্য। মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এখানে যাওয়ার সেরা সময়। পাঁচ দিনের জন্য আনুমানিক বাজেট মাথাপিছু ১০০০০ থেকে ২০০০০ টাকা।
৫. মুন্সিয়ারি উত্তরাখণ্ড
উত্তরাখণ্ডের হিমালয়ান হাইল্যান্ডখোলা উপত্যকা আল্পাইন তৃণভূমি আর কনকনে ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে মেঘ পাহাড়ের খেলা মুন্সিয়ারিকে স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলের এক্কেবারে সমকক্ষ করে তুলেছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হলো পিন্থোড়াগড় হয়ে পন্তনগরে ৩১০ কিলোমিটার দূরে। নিকটবর্তী রেল স্টেশন কাঠগোদাম থেকে ২৭৫ কিলোমিটার পথ শেয়ার্ড জিপে আসা যায়।
থাকা-খাওয়ার খরচ
হোমস্টেতে ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং হোটেলে ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা প্রতি রাত খরচ পড়বে। স্থানীয় কুমাওনি থালি ভাট কি চুরকানি আলু কে গুটকে এবং বাল মিঠাইয়ের স্বাদ নিতে পারেন যার খরচ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
প্রধান আকর্ষণ ও বাজেট
পাঞ্চচুল্লি শৃঙ্গ বার্থি ফলস খালিয়া টপ ট্রেক এবং উপজাতি সংস্কৃতির খোঁজ নিতে এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে এখানে আসা ভালো। চার দিনের জন্য আনুমানিক বাজেট মাথাপিছু ৬০০০ থেকে ১২০০০ টাকা।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
পশ্চিমবঙ্গ এবং বিশেষ করে শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের অঞ্চল থেকে যারা পাহাড়ের টানে বের হতে চান তাদের জন্য এই পাঁচটি জায়গার উপযোগিতা নীচে সাজানো হল।
তাওয়াং-উত্তর পূর্ব ভারতের মধ্যে থাকায় সবচেয়ে সহজে যাতায়াতযোগ্য এবং অনবদ্য পাহাড়ি সৌন্দর্যে ভরা।মুন্সিয়ারি-কম ভিড় এবং অসাধারণ ফটোগ্রাফির জন্য সেরা ঠিকানা।আউলি-যারা ক্যাবল কার বা রোপওয়ে এবং বরফ পছন্দ করেন তাদের জন্য আদর্শ।খাজিয়া-হুবহু ছবির মতো সুন্দর স্কটিশ গ্রামীণ পরিবেশের অভিজ্ঞতা দেয়।কুর্গ-আরামদায়ক থাকা খাওয়া এবং কফি বাগানের এক চমৎকার মেলবন্ধন।