রাজ্যের পালাবদল ঘটে গিয়েছে ৪ মে। তারপর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন। দুর্নীতি, ভয় দেখানো থেকে শুরু করে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। কার্যত এই পালাবদল সাহস দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। আর সেই কারণেই একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন। আর অন্যায়ের অভিযোগ জানাচ্ছেন সাধারণ আমজনতা।
আর এবারে সিঙ্গুর কৃষি জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মানিক দাস গ্রেফতার হলেন। তাঁকে গ্রেফতার করল সিঙ্গুর থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে ২০১৪ সালের একটি মামলাতেই ধৃত তৃণমূল নেতা মানিক দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণা, নথি জাল, জালিয়াতি করা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। চন্দননগর আদালতের তরফে অনেক আগেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কেন তিনি গ্রেফতার হননি তা সব থেকে বড় প্রশ্ন ছিল।
এবারে সরকার বদল হতেই তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, আজই হয়তো তাঁকে বিশেষ আদালতে তোলা হবে। ধৃত মানিক দাস সিঙ্গুর কৃষি জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পাশাপাশি হুগলি জেলা পরিষদের তিন বারের নির্বাচিত সদস্য ও জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষও ছিলেন তিনি। এমনকি প্রাক্তন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখন দেখার তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা কোনদিকে যায়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সমনয়ে স্থানীয় কৃষকদের একত্রিত করা থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সামলেছিলেন।
যদিও এর আগেও একাধিক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করার সময় ক্ষুব্ধ স্থানীয় আমজনতার থেকে ‘ডিম থেরাপি’ও পেয়েছেন ওই সকল তৃণমূল নেতা। এই ডিম থেরাপির থেকে বাদ যাননি স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মশকরাও। কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন কতটা বিরক্তি, বিতৃষ্ণা থাকলে মানুষ এভাবে রাস্তায় নেমে আসতে পারে। গত ১৫ বছরে তৃণমূল জমানায় মানুষ যে একটা দিনও শান্তিতে থাকতে পারেননি তা যে মানুষের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট হয়েছে তাও জানাচ্ছেন তারা। যদিও এখনও একাধিক তৃণমূল নেতার তরফে পুুলিশের তরফে শুরু হয়েছে তদন্ত। এমনকি পুলিশি তদন্ত ও জেরার থেকে বাদ যাননি স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এখন দেখার আগামীতে এই পরিস্থিতির রুপ কেমন দাঁড়ায়। যদিও বর্তমানে কার্যত ২ ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল।