অনুপ্রবেশের ধাক্কায় বদলাচ্ছে বাংলা-অসমের জনবিন্যাস! কমিটিকে সীমান্ত-জেলায় যেতে নির্দেশ শাহের
প্রতিদিন | ১৪ জুন ২০২৬
মূলত বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশের ধাক্কায় পশ্চিমবঙ্গ, অসম-সহ সীমান্ত রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে বলে দাবি করে ইস্যুটি বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে আগেই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। এবার কমিটির সভায় পৌরোহিত্য করে সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলিতে জনসংখ্যা কাঠামোয় ঘটে চলা বদল পর্যবেক্ষণ করতে বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবারের বৈঠকে শাহ সীমান্ত এলাকা, মেট্রো শহর ও শিল্পাঞ্চল কেন্দ্রিক শহরগুলি পরিদর্শনে যেতে বলেন কমিটি সদস্যদের। বেআইনি অভিবাসনের পাশাপাশি সেখানে নানা অস্বাভাবিক কারণ, ফ্যাক্টরের জেরে যেসব বদল ঘটেছে, তার মূল্যায়ন করতে বলেন তিনি।
বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকে অন্যতম প্রচারের ইস্যু করে সাম্প্রতিক অসম ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে বিরাট সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। তারপরই ভারতজুড়ে জনবিন্যাস বদল খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সুপারিশের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়েছে শাহের মন্ত্রক। কমিটির নেতৃত্বে আছেন অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকর। সেনসাস কমিশনার-সহ অবসরপ্রাপ্ত আমলা, পুলিশ কর্তারাও আছেন কমিটিতে। প্রধানমন্ত্রী মোদির আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ড. শমিকা রবিও কমিটির সদস্য। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) এই কমিটির সদস্য সচিব।
গত মাসে কমিটি গড়ে শাহ সওয়াল করেন, জনবিন্যাস বদল এতটাই বড় বিপদ যা শুধুমাত্র দেশের সার্বভৌমত্ব নয়, জাতীয় সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন ও আদিবাসী সমাজের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কমিটির কাজের যে শর্তাবলি স্থির হয়, সেই অনুসারে তারা বেআইনি অনুপ্রবেশ-সহ জনবিন্যাস বদলের ফলে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে।
কমিটি গঠন সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, কমিটি ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠী পর্যায়ে কাঠামোগত জনসংখ্যা বদল খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি এ দেশে বসবাসকারী বেআইনি অভিবাসনকারীদের বৈধ, আইনি পথে সময় বেঁধে শনাক্তকরণ, আটক ও বিতাড়নের জন্য মসৃণ, স্থায়ী অপারেশনাল মেকানিজমের সুপারিশও করবে কমিটি। বেআইনি অভিবাসন, অস্বাভাবিক বসতি স্থাপনের ধাঁচ ও সংগঠিত স্থানান্তর-সহ নানা বদলের পিছনে বিভিন্ন কারণও চিহ্নিত করবে কমিটি।