ঐতিহাসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রয়েছে একাধিক স্মৃতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এবং সংস্কারের অভাবে প্রায় ভগ্ন পরিস্থিতি। রাজ্যে পালাবদলের পরেই স্মৃতি সমৃদ্ধ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন সংস্কারের কাজ শুরু করে দিল রেল। হেরিটেজ স্টেশনটি একেবারে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনতে চায় রেল। আর তা করতে প্রায় তিন কোটি টাকা রেলের তরফে বরাদ্দও করা হয়েছে। এরপরেই কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। রেল আধিকারিকদের দাবি, খুব শীঘ্রই কাজ শেষ করে ফের পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনা হবে।
১৮৮০ সালে তৈরি হয় শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন। ঐতিহাসিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান ব্যক্তিরা পদার্পণ করেছিলেন এই স্টেশনে। বর্তমানে ভগ্নপ্রায় ওই স্টেশনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে রেল সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএম বীরেন্দ্রকুমার নাড়া জানিয়েছেন, হেরিটেজ স্টেশনটি আগের চেহারায় ফিরিয়ে এনে সংরক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় অনেক কিছুই হারিয়ে গিয়েছে। তবু শেষ পর্যন্ত হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে খুশি রেলপ্রেমী ও ইতিহাস অনুরাগীরা।
দীর্ঘসময় পর স্টেশনটির সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের আশা, ঐতিহাসিক টাউন স্টেশন আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একাধিক ট্রেন ফের এই স্টেশনে স্টপ দেবে। আর তা হলে যাতায়াতে যেমন সুবিধা হবে, তেমনই এলাকার ছবিও অনেকটা বদলে যাবে। অন্যদিকে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি টাউন পর্যন্ত ডাবল লাইনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এটা হলে স্টেশনটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা একাধিক রেল প্রকল্পের কাজ নিয়ে বিস্তারিত চর্চা হয়। এরপরেই একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাজে গতি আনতে বিশেষ টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে রাজ্যের তরফে।