• দেবী বর্গভীমার মাহাত্ম্য এবার পাড়ি দেবে সাত সমুদ্র পারে, ডাক বিভাগের উপহারে তমলুকের গর্বের দিন
    News18 বাংলা | ১৪ জুন ২০২৬
  • বিশেষ উদ্যোগ নিল ভারতীয় ডাক বিভাগ। এবার দেবী বর্গভীমা মায়ের মহিমা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে পৌঁছে যাবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বর্গভীমা। পুরানে বর্ণিত এই মন্দির ৫১ সতী পীঠের এক পীঠ। দেবী মা এখানে উগ্রতারা রূপে পূজিত হন। এই দেবী বর্গভীমা মায়ের মাহাত্ম্য শুধু তমলুক তথা সমগ্র মেদিনীপুরের মধ্যে এখন আর সীমাবদ্ধ নয়। কালের চাকায় ভর করে দেবী বর্গভীমা মায়ের ভক্ত সংখ্যা বাড়ছে রাজ্যজুড়ে। বর্তমানে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে আসছেন পুজো দিতে। এবার এই মন্দিরের মাহাত্ম্য ও ইতিহাস পৌঁছে যাবে দেশে বিদেশে।

    ভারতীয় ডাক বিভাগের তমলুক সার্কেলের উদ্যোগে বিশেষ খাম উদ্বোধন হল বর্গভীমা মন্দির নিয়ে। ১৩ জুন শনিবার মন্দিরে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ পোস্টাল খাম উদ্বোধন হয়। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ডাক বিভাগের তমলুক ডিভিশনের অধীক্ষক অসিত কুমার মহান্তি, তমলুকের মহাকুমা শাসক শৌভিক মুখার্জি, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ব্রহ্মময় নন্দ সহ মন্দির সেবায়ইত ও অন্যান্যরা। দেবী বর্গভীমা মায়ের চরণে পুজো দিয়ে বিশেষ পোস্টাল খাম উদ্বোধন হয়। জানা যায় বর্গভীমা মন্দিরের পাশাপাশি তমলুক হেড পোস্ট অফিস থেকে দেবী মা ও মন্দির ছবি দেওয়া এই খাম পাওয়া যাবে।

    বর্গভীমা মন্দির ও মায়ের ছবি দেওয়া বিশেষ পোস্টাল খাম নিয়ে ভারতীয় ডাক বিভাগের তমলুক ডিভিশনের অধীক্ষক অসিত কুমার মহান্তি, “পোস্টাল কভার পোস্ট অফিস সহ বর্গভীমা মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছেও পাওয়া যাবে। এই খামের মাধ্যমে যেমন মায়ের ছবি দেখতে পাবেন তেমনি পেছনে কিছু ইতিহাসও লেখা রয়েছে।” মন্দিরে সেবাইত শিবাজী অধিকারী বলেন, “ভারত সরকারের ডাক বিভাগের তমলুক শাখার সুপারিনটেন্ট উদ্যোগ নিয়েছিলেন বর্গভীমা মন্দির নিয়ে স্পেশাল কভার তৈরি করার। শুধু দেশের মধ্যে নয় এবার আন্তর্জাতিক স্তরে মায়ের প্রচার ছড়িয়ে পড়বে।”

    তমলুকের শক্তিপিঠের প্রাচীন নাম বিভাস। দেবী এখানে বর্গভীমা বা ভীমারূপা নামে অধিষ্ঠিত। ভৈরব সর্বানন্দ মতান্তরে কপালি। মহামায়া সতীর দেহাংশের মধ্যে বাম গুল্ফ বা বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল এখানে। ১৪৬৬ খ্রিস্টাব্দ মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল কাব্যে গোকুলে গোমতী নামা তাম্রলিপ্তে বর্গভীমা এবং মার্কণ্ডেও পুরাণে আছে দেবী বর্গভীমার উল্লেখ। দেবী ভক্তদের চারটি বর্গ দান করেন, তাই তার নাম বর্গভীমা। সতীর একান্ন পীঠের এক পীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা, বর্তমানেও নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হন মা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের আজও মধ্যমণি মা বর্গভীমা। এবার দেবী বর্গভীমা মায়ের মহিমা আর তমলুক তথা রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে দেশে বিদেশে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)