• অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যালকোহল একসঙ্গে নয়, খেলে কী বিপদ ঘটবে জানেন?
    এই সময় | ১৪ জুন ২০২৬
  • গুরুতর অসুস্থ না হলে আজকাল ডাক্তাররাও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেন না। আর অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ না করলে সংক্রমণ আবার ফিরতে পারে। সুতরাং, অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই যে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন, তা নয়। এ ছাড়া যখন অ্যান্টিবায়োটিক নিচ্ছেন, তখন একটু সতর্ক থাকা উচিত। ধরুন, মরশুম বদলের সময়ে আপনার জ্বর-সর্দি হয়েছে। স্বস্তি না পাওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন। একটু সুস্থ হলেই একদিন মদ্যপান করলেন। হয়তো ৬০ মিলির বেশি খাননি। কিন্তু এই ভুলে আপনার সঙ্গে কী ঘটতে পারে, জানেন?

    অনেকের ধারণা, সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার সময়ে অল্প মদ্যপানে কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে মদ্যপান করা চলে না। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইন্টারনাল মেডিসিনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মঞ্জুশা আগরওয়াল জানিয়েছে, অ্যালকোহল অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা বাড়াতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময়ে লিভারের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। 

    যখন শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যালকোহল একসঙ্গে প্রবেশ করে, তখন ওষুধের বিপাক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করে না আর আপনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন না। তার উপর নানা সমস্যা বাড়তে থাকে। ডাঃ আগরওয়ালের মতে, ‘Metronidazole, Tinidazole এবং Cephalosporins-এর মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, যা অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশলে বমি, মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি হার্টবিট বেড়ে যায়। তাই এই ওষুধগুলো কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত মদ্যপান করা উচিত নয়।’

    অ্যালকোহল এবং অ্যান্টিবায়োটিক লিভারে একসঙ্গে বিপাক হতে পারে। ফলে শরীরে জমতে থাকে টক্সিন। এর তাৎক্ষণিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেই বমি, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তা ছাড়া ব্যাপক প্রভাব পড়ে লিভারে। অ্যালকোহল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। ক্ষত সেরে উঠতে সময় নেয়। ওই সময়ে উপসর্গের প্রভাব কমে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, রোগ সেরে গিয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয় না। যার জেরে আবার কয়েক দিন পরে ওই একই ইনফেকশন দেখা দেয়। সহজ কথায়, যতদিন না অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ হচ্ছে, মদ ছুঁয়ে দেখা উচিত নয়। যদি মদ্যপান করতে হয়, তা হলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করার ৪৮ ঘণ্টা পর তা করা উচিত। তার আগে নয়।

  • Link to this news (এই সময়)