• ‘বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি নয়’, ‘বিদ্রোহী’দের বৈঠকের মাঝেই স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
    এই সময় | ১৪ জুন ২০২৬
  • দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা বৈঠকে বসেছেন। জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা, এই বৈঠকের পরেই তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে আলাদা ব্লক গড়ার সই করা চিঠি দিয়ে আসবেন। তার মাঝেই প্রকাশ্যে এল স্পিকার বিড়লাকে দেওয়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি। যে চিঠিতে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের আর্জি, দলের কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়!

    রবিবার ভূপেন্দ্রর বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠকের মাঝে তৃণমূলের আর সাংসদ কীর্তি আজ়াদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষও চলে যান স্পিকারের বাড়িতে। তাঁরা স্পিকারের কাছে আর্জি জানান, যেন বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, তাঁরা অভিষেকের চিঠি (চিঠিটি ১০ জুনের) নিয়েই স্পিকারের বাড়িতে যান। পরে বাইরে বেরিয়ে কীর্তি-সাগরিকা জানান, স্পিকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মান্যতা দিলে আইনি লড়াই হবে। সাগরিকা বলেন, ‘এই ভাবে আলাদা গোষ্ঠী তৈরির পদক্ষেপ অসাংবিধানিক এবং বেআইনি।’ কীর্তিও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চের রায়ে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনও বিভাজন হতে পারে না। মহারাষ্ট্র সংক্রান্ত মামলায় দেওয়া রায়েও স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের বিভাজন বেআইনি। আমরা মূলত এই বিষয়েই একটি চিঠি জমা দিতে এবং লোকসভার স্পিকারকে সাংবিধানিক কাঠামো ও আইনি বিধান মেনে কাজ করার আহ্বান জানাতে এখানে এসেছি।’

    প্রকাশ্যে আসা অভিষেকের চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। লোকসভায় যে সংসদীয় দল রয়েছে, সেটিও মূল রাজনৈতিক দলের উপরেই নির্ভরশীল এবং তা ওই রাজনৈতিক দলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আইনত তৃণমূল একটিই। একইভাবে একজন করেই লোকসভার দলনেতা এবং এক হুইপ আছেন। তাঁরা সকলেই মূল রাজনৈতিক দল এবং তার সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নিজ নিজ পদে থাকেন। সাংসদেরা কখনও একই দলের মধ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো কোনও সমান্তরাল গোষ্ঠী তৈরি করে লোকসভায় পৃথক স্বীকৃতির দাবি করতে পারেন না।’

    তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যায়, বিদ্রোহী শিবিরে তিনিও যুক্ত হচ্ছেন। সেই সঙ্গেই বিদ্রোহীদের সূত্র মারফত খবর মেলে, রবিবার কেন্দ্রীয় ভূপেন্দ্রর বাড়িতে আবার বৈঠকে বসতে পারেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা।

    সেই মতোই রবিবার দুপুর সেই বৈঠক হয় ভূপেন্দ্রর বাড়িতে। সূত্রের দাবি, সেখানে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও রয়েছেন। রবিবার সুদীপ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ‘অধিকাংশ সাংসদ এবং বিধায়ক চেয়েছিলেন, এই উদ্যোগটি সফল হোক। তাঁরা চেয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মোতাবেকই দল পরিচালিত হোক। সেখানে উনিই মুখ্য উপদেষ্টা এবং দলনেত্রীর মতো ভূমিকা পালন করবেন। তাঁদের এই আবেদন আমাকে গভীর ভাবে স্পর্শ করেছে। তাই, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি তাঁদের সঙ্গেই থাকব।’ জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা, শেষমেশ যদি বিদ্রোহীরা লোকসভায় আলাদা ব্লক তৈরি করতে সক্ষম হন, সে ক্ষেত্রে সেই ব্লকের নেতা হতে পারেন সুদীপ।

    রবিবার বিদ্রোহীদের বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব, পার্থ ভৌমিক, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, শর্মিলা সরকার, মিতালি বাগ, বাপি হালদার, ইউসূফ পাঠান, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ এবং কালীপদ সোরেনকে দেখা যাচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)