• চলন্ত ট্রেনে আগুনের গুজব, আতঙ্কে ঝাঁপ যাত্রীদের! অন্য ট্রেনের ধাক্কায় ঘটে গেল বড় বিপর্যয়
    এই সময় | ১৪ জুন ২০২৬
  • রবিবাসরীয় বিকেলে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। ট্রেনে আগুন লেগেছে— ছড়িয়ে পড়েছিল গুজব। এর জেরে তৈরি হওয়া আতঙ্কেই প্রাণ হারালেন একাধিক যাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার গুজব ছড়াতেই বহু যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকেই লাইনে ঝাঁপ দেন। সেই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসছিল অন্য একটি এক্সপ্রেস ট্রেন। তার ধাক্কায় অন্তত ৪ জনের প্রাণ গিয়েছে এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক, তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার হেতমপুর রেল স্টেশনের কাছে। হেতমপুর উত্তর-মধ্য রেলের ঝাঁসি ডিভিশনের অন্তর্গত। রবিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট নাগাদ হেতমপুর স্টেশনের কাছে এক জায়গায় ডাউন খজুরাহো-উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস (১৯৬৬৫) আচমকাই দাঁড়িয়ে যায়।

    রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ট্রেনের এক জেনারেল কোচের কোনও যাত্রী আপৎকালীন চেন (ACP) টেনেছিলেন। সেই কারণেই ট্রেনটি লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়ই ট্রেনের ভিতরে হঠাৎ গুজব রটে যায়, কামরায় আগুন লেগেছে। এই গুজবের জেরেই যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ‘প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে’ বহু যাত্রী তড়িঘড়ি ট্রেন থেকে ঝাঁপ মেরে পাশের ট্র্যাকে গিয়ে দাঁড়ান।

    ঠিক সেই সময়ই আপ লাইন দিয়ে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছিল ফিরোজপুর-সেওনি পাতালকোট এক্সপ্রেস (২০৪২৪)। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাতালকোট এক্সপ্রেস তাঁদের পিষে দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়। আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।

    রেল এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। উদ্ধারকাজ চলছে। রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রকৃত হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)