বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের রামপুরে শালি নদীর উপরের ব্রিজটির ভগ্নপ্রায় দশা দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এ বার দীর্ঘদিনের সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেন রাজ্যের নব নিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। রবিবার বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ওই ভগ্ন সেতুটি পরিদর্শনে যান। তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ছিল শালি নদীর উপরের ওই সেতু। ফলে ৫০টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভাঙা সেতুর উপর দিয়েই চলাচল করতেন। কিন্তু বর্ষাকালে নদী ফুঁসে উঠলেই সেতুটি জলের তলায় চলে যেত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। যার জেরে গ্রামবাসীদের প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুর পথে যাতায়াত করতে হতো। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাজ্যের আগের সরকারের আমলে একাধিকবার স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা। সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে পরিদর্শন করলেন রামপুরের ওই ভগ্ন ব্রিজ।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব প্ল্যান করে এই ব্রিজ নির্মাণ হবে। আগের সরকারের আমলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি-সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও সুরাহা মেলেনি।’
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, ‘ব্রিজের যে এত খারাপ অবস্থা, সেটা আমাদের জানা ছিল না। মন্ত্রী মহাশয় বিষয়টি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’