• নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা, দলের নাম জানালেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    এই সময় | ১৫ জুন ২০২৬
  • নতুন দলে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। চার বছরের পুরোনো রাজনৈতিক দল NCPI-এ মিশে NDA শিবিরে সামিল হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ। এ খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। NCPI বা Nationalist Citizens Party of India ত্রিপুরার একটি দল। তার সঙ্গে জুড়ছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ব্লক।

    ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িতে এনডিএ-তে যোগ দিতে চেয়ে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ। আজ, রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী ওরফে দেব, সায়নী ঘোষ, মিতালি বাগ, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, মালা রায়, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তীদের মতো ২০ জন সাংসদ।

    সেখান থেকেই লোকসভার স্পিকারের বাসভবনে যান এই বিদ্রোহী সাংসদরা। আর এর পরেই বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসে, যে কোনও রকম আইনি জটিলতা এড়াতে তৃণমূল ছেড়ে নতুন দলে যোগ দিতে চলেছেন জোড়াফুল প্রতীকে জিতে আসা ২০ জন সাংসদ। আর সেই দল হতে চলেছে NCPI। পরে সুদীপ সে খবরের সত্যতাও স্বীকার করেন। ২০২৩ সালে ত্রিপুরা থেকে এই দলের রেজিস্ট্রেশন। মূলত অসম, ত্রিপুরা ও বাংলায় কাজ করে তারা। রাজনীতিতে সে ভাবে পরিচিত নাম না হলেও NDA-এর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই রয়েছে তাদের।

    Nationalist Citizens Party of India বা NCPI একটি ছোট দল। এদের রেজিস্ট্রেশন থাকলেও একেবারেই পরিচিত নাম নয়। মূলত সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করে থাকে। ভোটে লড়ার ইতিহাসও প্রায় নেই বললেই চলে। ২০২৩ সালে ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে NCPI-এর প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন জাহাঙ্গির আলি নামে এক প্রার্থী। ঊনকোটির কৈলাশর থেকে লড়েন তিনি। খুব কম ভোট পান।

    সূত্রের খবর, আইনি জটিলতা এড়াতেই দল বদলের এই সিদ্ধান্ত। তৃণমূলের স্বতন্ত্রশাখা বা আসল তৃণমূলের মান্যতা পেলে জটিলতা থাকত না। কিন্তু বিকেলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা দুই সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি নিয়ে স্পিকারের কাছে যান। যে চিঠিতে অভিষেকের আর্জি, দলের কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। ফলে আইনি জটিলতা তৈরির একটা চরম সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পরেই বাংলার রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে এমন রাজনৈতিক দল হিসেবে NCPI-এর নাম উঠে আসে বলে খবর।

    এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে NDA-এর শরিক হয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)