• NCPI Tripura: ঠিকানা হাওড়ার, ভোটের লড়াই ত্রিপুরায়, কারা এই ‘NCPI’? যাদের শরণে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা
    এই সময় | ১৫ জুন ২০২৬
  • রবিবাসরীয় রাতে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে ফের এক আকর্ষণীয় বাঁক। এ দিন বিকেল পর্যন্ত সকলেই জানতেন তৃণমূল কংগ্রেসের ২০-২২ জন বিদ্রোহী সাংসদ তৃণমূলের থেকে বেরিয়ে একটি পৃথক ব্লক গঠন করতে চলেছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল চিত্রপট। বিক্ষুব্ধ শিবির জানিয়েছে, দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) জট কাটাতে তাঁদের শিবিরে থাকা ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ‘ন্যাশনলিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা NCPI নামে একটি ছোট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘মার্জ’ বা একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই একীভূতিকরণের পরেই তাঁরা NDA জোটে শামিল হবেন। কারা এই NCPI? আসুন চিনে নেওয়া যাক—

    উইকিপিডিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI ভারতের একটি ছোট, নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। মূলত একটি সমাজকল্যাণ সংস্থা হিসেবে সমাজের দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের সাহায্য করে থাকে এই দল।

    নির্বাচনেও তাদের উপস্থিতি এখনও পর্যন্ত অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে কৈলাশহর এবং চৌমানু (এসটি) আসনে প্রার্থীকে দিয়েছিল। তবে খুব অল্প সংখ্যক ভোট পেয়েছিল। একটি আসনেও জিততে পারেনি। দুই প্রার্থীই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই দু'টি আসনে সেই সময়ে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসও।

    সমাজসেবামূলক কাজ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে এই দলের কোনও কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। জাতীয় বা রাজ্য স্তরে এদের কোনও বড় মুখ, সুনির্দিষ্ট মতাদর্শ, এমনকী নিজস্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইট নেই। মূলত ত্রিপুরার দল হিসেবেই পরিচিত।

    তবে দলটি নথিভুক্তির সময়ে ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর ‘মিলেনিয়াম পোস্ট’ সংবাদপত্রে হিন্দি ও ইংরাজি ভাষায় একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল তারা। তাতে হাওড়ার বাঁকড়া থানার অন্তর্গত নটপাড়া গ্রামের এক ঠিকানা তারা ব্যবহার করেছিল কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেছিল: ‘সাধারণ জনগণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দলের কার্যালয় বিবরা, হোল্ডিং নং-৪৭৯, গ্রাম নটপাড়া, পোস্ট অফিস- বাঁকড়া, থানা- বাঁকড়া, জেলা- হাওড়া, পিন-৭১১৪০৩-এ অবস্থিত... ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’-র নিবন্ধন নিয়ে যদি কারও কোনও আপত্তি থাকে... তবে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সদন, অশোকা রোড, নিউ দিল্লি - ১১০০০১-এ আপত্তি প্রেরণ করুন।’

    সাইরাইলের ওই ঠিকানা ব্যবহার করে ‘Nationalist Citizens Party of India’ নামে একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানেও তারা নিজেদের দরিদ্রদের সহায়ক সামাজিক সংগঠন বলে দাবি করেছে। তবে এটি NCPI নামে রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে এই ফেসবুক পেজের সংযোগ রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

    জাতীয় বা নিদেন পক্ষে রাজ্য স্তরেও কোনও রাজনৈতিক অস্তিত্ব বা প্রভাব না থাকা সত্ত্বেও এই ছোট্ট দলকে কেন বেছে নিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা? সংবিধান ও সংসদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অত্যন্ত কড়া। দলছুট সাংসদরা যদি শুধু আলাদা একটি ব্লক গঠন করেন, তবে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ বা অযোগ্য (Disqualification) হিসেবে ঘোষিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।

    আইনজ্ঞদের মতে, এই আইনি জটিলতা এড়ানোর একমাত্র উপায় হল অন্য কোনও নিবন্ধিত দলের সঙ্গে নিজেদের আনুষ্ঠানিক ভাবে মার্জ করে নেওয়া। এই আইনি ঢাল ব্যবহার করে যাতে সহজেই BJP-র নেতৃত্বাধীন NDA শিবিরে সামিল হওয়া যায়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের।

  • Link to this news (এই সময়)