দিঘাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে আগামী দিনে। তবে শুধু দিঘাই নয়, মন্দারমণি এবং তাজপুর সমুদ্রসৈকতকেও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিল্পশহর হলদিয়াকেও পুনরুজ্জীবিত করা হবে। রবিবার দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রপাড়ে যে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার কথা, মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিলেন তা নিয়েও।
প্রায় ২ ঘণ্টার বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সমস্ত সম্পদ রয়েছে। সমুদ্র রয়েছে। শিল্প-কৃষিও রয়েছে। যদি প্রকৃত উন্নয়ন হতো, রাজ্যের মধ্যে সামনে সারিতে থাকত এই জেলা। শুভেন্দু নিজেও এই জেলারই বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘এতদিন উন্নয়ন স্তব্ধ ছিল। এই সরকার উন্নয়ন করবে। আগের সরকার গত ২ বছরে কোনও কাজ করেনি। হাসপাতালের অবস্থা খুব খারাপ। একটাও আইসিইউ বেড নেই। মাত্র একটা অ্যাম্বুল্যান্স। হাসপাতালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা। মাত্র ১৭ হেল্প স্টাফ।’
কয়েক দিন আগেই ওডিশার সমুদ্রসৈকতে শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া এই জেলায়। এসডিও-কে নুলিয়াদের সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বলেছি। বেতনও বাড়াতে বলেছি। ১০০ বেডের হাসপাতাল দরকার। নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক-অর্থোপেডিক সার্জন পাঠাতে বলেছি। অন্তত ৫টা আইসিইউ বেড লাগবে। এত পর্যটক এখানে আসেন। একটা ন্যূনতম ব্যবস্থা তো থাকা চাই।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নয়াচরে মৎস্যহাব তৈরির যে ঘোষণা হয়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। হলদিয়াকে নতুন করে সাজানো হবে। ড্রেজিং করে বন্দরের নাব্যতা বাড়ানো হবে। বন্ধ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। নতুন শিল্প আনা হবে। দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওখানে সরকারের জমি রয়েছে। সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠলে একটা বড় সাফল্য হবে। এখানকার অর্থনীতিই বদলে যাবে। সমগ্র জেলাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’
শুভেন্দু জানান, দিঘার উন্নয়নে পর্যটকদের থেকে যে ১০ টাকা করে নেওয়া হয়, ১ জুলাই থেকে তা বন্ধ হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সরকারের রুচিবিরুদ্ধ কাজ। সরকারের আয় হতো ৩০ লাখ। পর্যটক তো ৬০-৭০ লাখ আসে। তা হলে এত কম টাকা ওঠে কেন?’