• জিয়াগঞ্জে রাজ্য সরকারের তরফে অভিনব উদ্যোগ
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্কঃ প্রাকৃতিক উপায়ে চাষবাসে উৎসাহ প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজন করা হল বিশেষ কর্মশালার। রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জ ব্লকের লক্ষী টকিজে কৃষকদের জন্য আয়োজিত হল 'প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা'। 

    পরিবেশ দূষণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন-সহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে মাঠে উৎপাদিত ফসলের গুণমান  ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। তাই কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ ভাবে কৃষকদের রাসায়নিক সার এবং কীটনাশকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায়ে কৃষিকাজে উৎসাহিত করতে উদ্যোগী হয়েছে। 

    জিয়াগঞ্জের লক্ষ্মী টকিজে আজ মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় ৩০০ জন কৃষককে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ এবং জনশিক্ষা ও গ্রন্থাগার দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ, জেলা কৃষি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রশাসন) ডঃ উৎপল মন্ডল, এডিএ (প্রশিক্ষণ) মিঠুন সাহা, মুর্শিদাবাদ জিয়াগঞ্জ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা মৌমিতা মজুমদার-সহ একাধিক আধিকারিক। 

    জেলা কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, প্রচলিত প্রাকৃতিক কৃষিকাজের সঙ্গে জৈব কৃষিকাজের কিছু মিল এবং অমিল রয়েছে। প্রাকৃতিক কৃষিকাজ মূলত গরু নির্ভর এবং ব্যবহৃত উপকরণগুলি হল বীজামৃত, জীবামৃত, পঞ্চগব্য, অমৃতপাণি, নিমাস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, ব্রহ্মাস্ত্র, দশপর্ণী, আরক প্রভৃতি। 

    তিনি বলেন, "দশকের পর দশক ধরে রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে উৎপাদিত ফসলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি  দীর্ঘদিন ধরে মাটিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে মাটির শক্তি এবং ফসল উৎপাদনের ক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমে আসছে। সেই কারণে প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে বিভিন্ন ধরনের বেলাস্ত্র, মঠাস্ত্র, আদাস্ত্র, নিম জাত নির্যাস, মিশ্র পাতার নির্যাস, পঞ্চপাতন, বিভিন্ন ধরনের ক্কাথ প্রভৃতি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, তা শেখানো হবে কৃষকদের। পাশাপাশি, পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সে বিষয়ে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। 

    কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিকদের বক্তব্য, এই পদ্ধতি অনুকরণ করে চাষীরা যদি ফসল উৎপাদন শুরু করেন, তাহলে তাঁদের ফসল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে। একইসঙ্গে উৎপাদিত ফসল খেয়ে মানুষ সুস্থও থাকবেন। 

    রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন, "পরিবার,সমাজ এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও সুস্থ রাখার জন্যই এই কর্মশালের আয়োজন করা হয়েছে। অত্যাধিক রাসায়নিক সার, কীটনাশক, সালফেট ব্যবহার না করে গোবর, গোমূত্র, নিম পাতা, ধুতরা পাতা, লঙ্কা প্রভৃতি জিনিসকে সার এবং কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করলে উৎপাদিত শস্যের গুণমান ভাল থাকবে। উৎপাদিত শস্যের ভেষজ গুণ ভাল থাকলে আমাদের প্রত্যেকের শরীর, সমাজ এবং পরিবার সুস্থ থাকবে।" গৌরী শঙ্করবাবু আরও বলেন, "সেই কারণেই চাষীদের প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে চাষ করা যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষিত করার জন্য এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিন রাজ্যজুড়ে এই ধরনের শিবির আরও বেশি সংখ্যায় আয়োজন করা হবে।" রাজ্যের মন্ত্রী আরও বলেন, "এখন রাজ্য জুড়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য প্রায় সমস্ত খাবারেই ভেজাল মিশছে। চাষী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে খাবার এবং উৎপাদিত ফসলে ভেজাল এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।"
  • Link to this news (আজকাল)