আবার সব্যসাচীকে ডিম থেরাপি, ক্ষোভ উগরে চোর স্লোগান দিলেন বিক্ষোভকারীরা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ জুন ২০২৬
তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। তাঁকে রবিবার তদন্তের স্বার্থে সল্টলেকের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে নিয়ে গেল পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশ যেখানে তাঁকে নিয়ে গিয়েছে, সেখানে চোর চোর স্লোগান শুনতে হয়েছে। উড়ে এসেছে ডিম।
রবিবার পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে সল্টলেকের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে পৌঁছয়। তদন্তকারীদের দাবি, মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওয়ার্ড অফিসে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশিও চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তল্লাশিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী মিলেছে। যদিও সেই সামগ্রী সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত দাবি করেন, যাঁরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ছেন, তাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। তবে সব্যসাচীর দাবি খারিজ করে দিয়ে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা এলাকারই বাসিন্দা। সব্যসাচীর লোকজন দোকানগুলি থেকে তোলা তুলতেন। তাঁরা দোকানদার।
এদিন সব্যসাচীকে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে একদল স্থানীয় বাসিন্দা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অনেকের হাতেই ডিম ছিল। ওয়ার্ড অফিস থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।
ওয়ার্ড অফিসে তল্লাশির পর তদন্তকারীরা সব্যসাচী দত্তকে এলাকার একটি ক্লাব এবং একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্রেও নিয়ে যান। সেখানেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক জায়গায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে দাবি তদন্তকারী আধিকারিকদের। এই আবহে সব্যসাচী গাড়িতে ঢুকে পড়ার পর একজন মহিলা গাড়ির ভিতরে হাত ঢুকিয়ে ডিম ছুঁড়ে বেরিয়ে আসেন। এভোবেই চলে ডিম থেরাপি।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে দিন থানার বাইরে থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে এবং আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন তাঁর আইনজীবীরা। রবিবারও একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল তৃণমূলের এই নেতাকে। তদন্তকারীরা এখন তল্লাশি থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন। মামলার তদন্তে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে কিনা, সেটাই এখন দেখার।