মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়ানোয় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন আত্মীয়রা। রবিবার নদিয়ার কল্যাণীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম অঞ্জলি রানি কর্মকার (৮১)। তাঁকে ২০২৩, ২০২৪ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কল্যাণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতার পরিবার। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
কল্যাণী পুলিশ ও বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় বাড়ি অঞ্জলির। গত ৮ জুন তাঁর পা ভেঙে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণী মেন স্টেশনের কাছের একটি নার্সিংহোমে তাঁকে ভর্তি করান বাড়ির লোকজন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতাতেও ভুগছিলেন অঞ্জলি। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এ দিন সকালে সেই নার্সিংহোমেই মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু ওষুধের বিল হাতে নিয়েই চমকে ওঠেন মৃতার বাড়ির লোকজন।
প্রায় ৩৫টি ওষুধের বিল দিয়েছিলেন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তার অধিকাংশই মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে দাবি মৃতার মেয়ে শঙ্করী দাশগুপ্ত কর্মকারের। তিনি বলেন, ‘২০২১, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালের মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে মাকে। সেটাই সহ্য হয়নি। তার জন্যই মৃত্যু হয়েছে।’ কল্যাণী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। FIR-এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন, ‘নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃত ভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দিয়ে গিয়েছে। তার জন্যই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় মায়ের।’
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নার্সিংহোমের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর রতন অধিকারী। গোটাটাই প্রিন্টিং মিসটেক বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিল করার সময়ে ভুল করে পুরোনো ডেট, ব্যাচ নম্বর লেখা হয়েছে। কিন্তু রোগীকে কোনও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়নি।’ এমন ভুলের জন্য হাতজোড় করে ক্ষমাও চান তিনি। যদিও এই ঘটনার নার্সিংহোম চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান মৃতার আত্মীয়-স্বজনরা।
সত্যিই মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, নাকি বিল তৈরির সময়ে কারিগরি ত্রুটির জেরেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে কল্যাণী থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নার্সিংহোমের ওষুধের স্টক, বিল সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে মৃতার চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।