• দীঘাকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ার ঘোষণা
    আজকাল | ১৫ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়তে একাধিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, তুলে দেওয়া হল পর্যটক মাথা পিছু ট্যাক্স। আসন্ন রথযাত্রায় দীঘার রথ গড়াবে সনাতনী রীতিমেনে নতুন রূপে।

    দীঘাকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেদিন দিঘা শংকরপুর উন্নয়ন পরিষদে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্বাস্থ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সমুদ্র বন্দর নির্মাণ— একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে দীঘায় নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে ৬৩ জন নুলিয়া কর্মরত থাকলেও ভবিষ্যতে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে দীঘা রাজ্য সাধারণ হাসপাতালকে ১০০ বেডের উন্নত হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। আনা হবে নিউরো, অর্থোপেডিক ও সার্জিক্যাল পরিষেবা সম্বলিত এসি অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালের পরিকাঠামো জোরদারের পাশাপাশি নিয়োগ করা হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও হৃদরোগ, সার্জারি এবং স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।

    পর্যটকদের জন্য মাথাপিছু ১০ টাকা করে ধার্য করা ট্যাক্স তুলে দেওয়ার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার এই ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি করেছে। সেটা তদন্তও করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। 

    দীঘা থেকে সৌলা পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভকে ডাবল লেনে উন্নীত করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই মেরিন ড্রাইভ সৌলা থেকে পেটুয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “পর্যটকেরা চেন্নাই বা মুম্বইয়ের মতো মেরিন ড্রাইভের অভিজ্ঞতা পাবেন।”

    আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে দীঘার দুটি থানায় পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকার খুব কম সংখ্যক পুলিশ কর্মী দিয়ে থানা পরিচালনা করত, যা একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রের পক্ষে উপযুক্ত নয়।

    রেল পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দকুমার থেকে দীঘা পর্যন্ত রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    এছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নত পরিকাঠামো, স্কুলে পানীয় জল ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা, নন্দকুমার-দীঘা জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ এবং ঝাউবন সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যায়নের উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সবশেষে দাদনপাত্রবাড় এলাকায় ১৭০০ একর জমির উপর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।
  • Link to this news (আজকাল)