• পরাজয়ের চেয়েও বড় সঙ্কট, দল টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ মমতার
    eTV Bharat | ১৫ জুন ২০২৬
  • রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে পরাজয় কোনও নতুন বিষয় নয়। ভোটে হারার পর কোনও কোনও দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। কোনও কোনও দলকে বছরের পর বছর কাটাতে হয় বিরোধী পক্ষে। তারপর ফিরে আসে ক্ষমতায়। কোনও কোনও দল আবার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। পরিণতি যাই হোক না, রাজনৈতিক দলকে আসল পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর।

    দলের এক বিধায়ক প্রকাশ্যে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁকে সমর্থন করছেন অন্য নির্বাচিত বিধায়করা। পরিষদীয় দলের মতো সংসদীয় দলেও চওড়া হচ্ছে ভাঙন। দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে অধিকাংশ সাংসদ এনডিএ সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের প্রবীণ নেতারা শীর্ষ নেতাদের একাধিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন প্রকাশ্যে। এমন কিছু যে হতে পারে তা কয়েক বছর আগে ছিল কল্পনারও অতীত। শুধু কয়েক বছর আগে কেন, এই 2026 সালের প্রথম দিকেও এরকম কোনও সম্ভাবনাকে বাস্তবোচিত বলে মনে করা ছিল প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আজ তৃণমলের কাছে এসবই ঘোর বাস্তব, চূড়ান্ত সত্যি।

    আর তাই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরাট জয়- বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় খবর নয়। বরং 15 বছর ধরে বাংলার শাসন ব্যবস্থা যে দলের হাতে ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ বিবাদই জায়গা করে নিয়েছে শিরোনামে। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় বিরোধী থাকার পর একদা ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই প্রথম অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে। আবারও ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্ন তো কোন ছাড় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় তাঁর দল টিকে থাকবে কি না সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    হেরে যাওয়াটাই যখন বড়

    বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল আগেও হয়েছে। ক্ষমতায় থাকা কোনও দলকে এই প্রথম সরকার-ছাড়া হতে হয়েছে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। কংগ্রেস প্রথম পরাজিত হয় যুক্তফ্রন্টের কাছে। পরে বামেদের হাতে। সাড়ে তিন দশকের শাসন শেষে বামেরা পরাজিত হয় তৃণমূলের কাছে। এখন তৃণমূলের পরাজয়ের পর যা হচ্ছে তার সঙ্গে 2011 সালে বামেদের পতনের পর কী হয়েছিল তার তুলনা টানার সঙ্গত কারণ অবশ্যই আছে।

    34 বছর সরকার পরিচালনের পর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হারতে হয় বামেদের। কিন্তু নির্বাচনী ব্যর্থতার পরও বামেদের সংগঠন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েনি। মতের অমিল সেখানেও ছিল কিন্তু এমন সাংগঠনিক শূন্যতার দেখা মেলেনি। ক্ষমতায় না থেকেও সিপিএম তার ক্যাডারদের একটা অংশকে ধরে রাখতে পেরেছে। লোকাল কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন এবং ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্ব মুছে যায়নি। একের পর এক নির্বাচনী ব্যর্থতা এলেও এ ব্যাপারে কোনও বদল আসেনি।

    এখন এটা বুঝতে কোনও অসুবিধা হয় না যে বামেদের পক্ষে থাকা সমর্থনের খানিকটা একটা সময় তৃণমূলে গিয়েছিল। পরে তা চলে যায় বিজেপির দিকে। 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসন না পাওয়ার পরও যেভাবে সিপিএম নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেরেছে তা তাদের সাংগঠনিক সংস্কৃতির বিজ্ঞাপন হতেই পারে। প্রভাব না-ই থাকতে পারে কিন্তু সিপিএমের অস্তিত্ব এখনও অটুট।

    তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ আলাদা। দলটি তৈরি হয়েছিল মমতার উপেক্ষা করা অসম্ভব এমন রাজনৈতিক আবেদনের ভিত্তিতে। দলের ভিত্তি শক্ত করেছিল নজিরবিহীন রাজনৈতিক সাফল্য। ক্ষমতায় থাকাই 15 বছর ধরে তৃণমূলকে এক করে রেখেছিল। মাটির কাছাকাছি থাকা সংগঠনের কোন্দল, প্রতিটি জেলার আলাদা আলাদা প্রশাসনিক প্রয়োজনিয়তা এবং বাস্তবতা, বিভিন্ন দল ছেড়ে আসা নেতা-কর্মী এবং অঞ্চলে অঞ্চলে তৈরি হয় ক্ষমতার ভরকেন্দ্র থাকার পরও তৃণমূল যে একটি দল হিসেবে টিকে ছিল সেখানে আঠার কাজটাই করেছে ক্ষমতা। ক্ষমতা নেই তাই সাংগঠনিক ফাঁকফোঁকর এখন চোখে পড়ছে।

    বিদ্রোহের পটভূমি কলকাতা

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিধানসভার ট্রেজারি বেঞ্চ বা শাসক পক্ষের তরফ থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবরটি আসেনি। এসেছে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের তরফ থেকে। উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে যেভাবে একদল তৃণমূল বিধায়ক বিদ্রোহ করেছেন তা কয়েক মাস আগেও ছিল কল্পনার অতীত। তাঁকে বরখাস্ত করেছে তৃণমূল। কিন্তু বিধানসভার খাতায়কলমে এখন তিনিই তৃণমূলের নেতা। এখান থেকেই বোঝায় এখন তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ঠিক কতটা খারাপ।

    এটা কোনও বিচ্ছিন্ন কোন্দল নয়। বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে প্রবাহিত হয়েছে। সেখানে প্রকাশ্য বিরোধিতা ছিল বিরল। বিরোধ ছিল না তা নয়। তবে তা ছিল দলের অন্দরে। এখন সবকিছুই প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতারা এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন করছেন তাও আবার ভয় না পেয়ে। তৃণমূলের সাংগঠনিক দিক থেকে বিবেচনা করলে এই বিষয়টি অতিশয় তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধিতা নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালিত হতে পারে। কিন্তু কোনও দলের শীর্ষনেতারা যখন ভিতরে থাকা সংঘাতকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হন তখন তা বড় ধরনের সঙ্কটের বার্তা বয়ে আনে।

    বিরোধিতার সুর দিল্লিতেও

    কলকাতার পরিস্থিতি যদি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে তাহলে দিল্লি আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৈরি। বিধানসভায় ফাটল তৃণমূলকে চাপে ফেলেছে। কিন্তু লোকসভার ভাঙন আরও বড় সঙ্কট তৈরি করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে মমতার রাজনৈতিক প্রভুত্বের দুটো দিক আছে। প্রথমত, বাংলার ক্ষমতায় থাকা। আর দ্বিতীয়ত, দিল্লিতে বড় সংসদীয় দল ধরে রাখা। এই দুটির মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে গিয়েছে।

    একটা সময় মনে করা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিষয়টি তৃণমূলের পক্ষে ততটা ভাবনার কারণ হবে না। কিন্তু তা হয়নি। তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন এখন আর কল্পনায় বা নথিতে আটকে নেই। 28 জনের মধ্যে 20 জন তৃণমূল সাংসদ চিঠি লিখে লোকসভার স্পিকারকে জানিয়েছেন তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করেবন। এই বিরোধিতার নেতৃত্বে একসময় মমতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চিকিৎসক-সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

    ধারনা আর সংখ্যা দুটোই রাজনীতির বাহক। রাজনৈতিক দল সঙ্কটে পড়লে তখন তার ভিতরের সমীকরণ বদলাতে থাকে। নেতারা বিকল্পের খোঁজ শুরু করেন। উচ্চাকাঙ্খা খুঁজে নেয় নয়া দিশা। অনেক পুরনো দিনের আনুগত্যও পডে প্রশ্নর মুখে। আর তাই সাংসদদের বিরোধিতা তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অনেক বড় উদ্বেগের কারণ। এই রুঢ় বাস্তব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। পরিষদীয় দলে অসন্তোষ অস্বস্তির কারণ। সংসদীয় দলে ক্ষোভ তৃণমূলের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। কলকাতা এবং দিল্লির এই যৌথ অসন্তোষ তৃণমূলের চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়েছে। চাপে ফেলেছে মনস্তাত্বিক দিক থেকেও।

    অভিষেক অ্যাখ্যান

    তৃণমূলের অসন্তোষের অন্যতম বড় দিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তীত হচ্ছে। আর তা হল গত কয়েক বছরের মধ্যে অভিষের বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নেতৃত্বের মডেল। সে সমস্ত অভিযোগ এখন খুবই চেনা-জানা। পরামর্শদাতা সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ক্ষমতার একছত্র কেন্দ্রীকরণ, দলের ভিতরে বিতর্কের অবকাশ কমে যাওয়া এবং নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে নীতি নির্ধারকদের দূরত্ব- এই ধরনের নানা অভিযোগ এখন একত্রিত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অভিযোগ সত্য় না মিথ্য়া সেটা আর বিবেচ্য নয়। যা বিবেচ্য তা হল সকলে এখন প্রকাশ্যেই এই ধরনের কথা বলছেন।

    তৃণমূল যখন একের পর এক নির্বাচনে জিতত তখনও এই সমস্ত অভিযোগ ছিল। জয় অভিযোগকে প্রকাশ্য়ে আসতে বাধা দিয়েছিল। পরাজয়ের অভিঘাত সেই কাজটাই করে দিয়েছে। রাজনৈতিক সঙ্কট এভাবেই দিনের আলো দেখে। সাফল্য চ্যুতিরেখাকে ঢেকে রাখে। ব্যর্থতা সেসবকে প্রকাশ্যে এনে দেয়।

    মমতা এবং নীরবতা

    এই পরিস্থিতিতে মমতার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর গোটা রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে সঙ্কট এসেছে। প্রতিবার তিনি নিজেই তাঁর পরিত্রাতার ভূমিকা নিয়েছেন। ক্ষমতার অলিন্দে থেকে তিনি নিজের সুনাম অর্জন করেছেন তা নয়। তার সুনামের নেপথ্যে আছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিরোধ। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, লাগাতার প্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তাঁর অস্তিত্বের অংশ হয়ে উঠেছিল। তাঁকে এভাবেই দেখতে প্রস্তুত সমর্থকরা। তাঁরা সেই মমতাকেই চেনেন যাঁর কাছে রাস্তাই রাস্তা। তাই নির্বাচনের পর থেকে মমতার নীরব অবস্থান তাঁর সমর্থকদের কাছে শুধু অচেনাই নয় উদ্বেগেরও কারণ বটে।

    তাঁর নীরবতার নেপথ্য়ে কৌশল থাকতেই পারে। তিনি হয়তো সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁর হয়তো মনে হচ্ছে সংগঠনকে চাঙ্গা করার আগে স্থিতিশীল করা দরকার। কিন্তু রাজনীতি তো রঙ্গমঞ্চও বটে। সঙ্কট বা অনিশ্চয়তার সময় দল তার নেতার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকে। ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস চায়। সঠিক দিশায় ধাবিত হওয়ার মাগদর্শন চায়। যাঁরা এখনও তৃণমূলে রয়ে গিয়েছেন তাঁরা সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন যেখানে দলনেত্রী তাঁদের সঠিক পথে নিয়ে যাবেন।

    সম্প্রতি দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে মমতা হাজির ছিলেন। কিন্তু তাতে যে খুব একটা কাজের কাজ হয়েছে তা ভাবার কোনও কারণ নেই। কারণ তিনি যখন দিল্লিতে ঠিক তখনই সুকৌশলে বিজেপি তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরাতে পেরেছে। লোকসভা তাঁর পক্ষে আছেন মাত্র 8 জন সাংসদ। আর ঋতব্রতর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তৃণমূলের পরিষদীয় দল আদতে কী করবে তা একেবারেই মমতার নিয়ন্ত্রণে নেই।

    অস্তিত্বের সঙ্কট

    তৃণমূলের সঙ্কটের কারণ শুধু একটা নির্বাচনে পরাজয় নয়। বরং ক্ষমতা-ছাড়়া দলটির অস্তিত্ব থাকে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। গত 15 বছর ধরে তৃণমূল বাংলার ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হিসেবে থেকেছে। ক্ষমতায় থাকার সময় অনান্য দল থেকে অনেক নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অনেক কর্মী এমন তৃণমূলকেই চেনেন যা এতদিন ক্ষমতায় ছিল। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল করা অন্য় বিষয়। তার জন্য আলাদা মানসিকতার প্রয়োজন। প্রয়োজন শৃঙ্খলার এবং অনিশ্চয়তাকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতার।

    বামেরা 2011 সালের পর এই দক্ষতা রপ্ত করেছে। তাদের কাছে নির্বাচনী সাফল্য ছিল না। কিন্তু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট সংগঠন ছিল। তৃণমূল সবে এই যাত্রা শুরু করেছে। তারা বামেদের মতো সাফল্য পাবে কি না সেটা নিয়ে এখনও সংশয়ের অবকাশ আছে।

    মমতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকেই সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করে এসেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়ার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে অতীতে। আর তাই এখনই বলে দেওয়া যাবে না যে তৃণমূল অবলুপ্ত হতে চলেছে। একইভাবে এখনকার পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্য কতটা সঙ্কটদীর্ণ সেটা অস্বীকার করাও সমপরিমাণ ভুল হবে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানো যায়। দলের ভিতরে থাকা অসন্তোষও কাটিয়ে ওঠা যায়।

    তবে এটাও ঠিক, সংগঠনের ফাঁকফোকরও সামাল দেওয়া যায়। কিন্তু যখন একসঙ্গে দলের সংগঠন, পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলে অবিশ্বাস আর সন্দেহ দানা বাঁধে, ফাটল তৈরি হয় সেটা অনেক বড় সঙ্কটের কারণ হয়ে ওঠে। আর তা সামলানোও কঠিন।

    আগামী নির্বাচনে তৃণমূল জিতবে কি না সেটা এখন বিবেচ্য নয়। তারা নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রেখে এবং পর্যাপ্ত বিশ্বাস অর্জন করে বাংলার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে থাকবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আর ঠিক এই কারণেই তৃণমূলের সঙ্কট খুব গভীর। মমতা এখন শুধু কোনও বিরোধী নেত্রী নন, তিনি এমন এক লড়াইয়ে ব্রতী যেখানে তাঁর নিজের হাতে তৈরি রাজনৈতিক দল নিজের আগামীতে বিশ্বাস করে কি না সেটাই অজানা।
  • Link to this news (eTV Bharat)