• তৃণমূলের আলাদা ফ্রন্ট নয়, কেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে গেলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা
    TV9 বাংলা | ১৫ জুন ২০২৬
  • নয়া দিল্লি: দল ভাঙলই! তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আর আলাদা শিবির বা লোকসভায় আলাদা ফ্রন্ট হিসাবে নয়, বরং অন্য একটি দলের সঙ্গে মিশে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা (TMC Rebels)। ওই দলের নাম ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (Nationalist Citizens Party of India)। এই দলেরই সদস্য এখন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় থেকে শুরু করে দেব, সায়নী ঘোষরা। এই দল সমর্থন করবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে। তবে প্রশ্ন হল, কেন তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা শিবির না গড়ে, অন্য দলের সঙ্গে মিশে গেলেন বিদ্রোহী সাংসদরা?

    এক কথায় এই প্রশ্নের উত্তর হল, আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে বিগত কয়েকদিন কার্যত ঘোল খাইয়েই আজ, রবিবার (১৪ জুন) ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় মিশে গেলেন তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ।

    দলত্য়াগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে চাল?

    লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ ছিল। তার মধ্যে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। তবে আইন বলছে, একটি দলের অন্দরে দুটি ফ্রন্ট বা শিবির হতে পারে না। দলত্যাগ বিরোধী আইনে তখন তাঁরা ফেঁসে যাবেন। আইনের এই মারপ্যাঁচ থেকে বাঁচতেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা ঝুঁকি না নিয়ে অন্য দলে মিশে গেলেন। কার্যত এটিকে বিদ্রোহী সাংসদদের মাস্টারস্ট্রোক বলা যায়।

    আজ বিক্ষুব্ধ সাংসদদের লোকসভার স্পিকারের বাড়িতে পৌছনোর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের দুই সাংসদ প্রতিনিধি- লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ ও রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষকে স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে পাঠান। তারা মমতা-অভিষেকের চিঠি নিয়ে যান। সেই চিঠিতে বলা ছিল, সংসদের নিয়ম ও সংবিধানের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও একটি রাজনৈতিক দলের সংসদীয় পার্টির দুটি আলাদা ব্লক হতে পারে না। যদি সেই সিদ্ধান্তকে স্পিকার মান্যতা দেন, তবে তা সম্পূর্ণ অ-সংসদীয় এবং সংবিধানের আইনের পরিপন্থী। আদালতে যাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে না হয়, তার জন্যই বিদ্রোহী সাংসদদের এই চাল।

    কী বলছেন কাকলিরা?

    হাওড়ার বাঁকরার ঠিকানায় নথিবদ্ধ এই পার্টি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই দলেই মিশে গেলেন কাকলি-সুদীপরা। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আমরা যারা নির্বাচিত সাংসদ, তারা দলের প্রতি আমাদের ক্ষোভ আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছি এবং আলাদা দল-ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানাই। আলাদা বসার চিঠি দিয়েছি আমরা। দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বেশি রয়েছি আমরা। রাষ্ট্রের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব আমরা।”
  • Link to this news (TV9 বাংলা)