মনোজ কর্মকার, বাঁকুড়া
দোকানের সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষার দিন শেষ। ইতি ঘটতে চলেছে ভারী সিলিন্ডার কাঁধে চাপিয়ে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তা পৌঁছে দেওয়ার দিনও। বাড়ি বাড়ি পিএনজি অর্থাৎ পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস পরিষেবা চালু হয়ে গেল বাঁকুড়া শহরে। এ বার থেকে নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে এই নিরবিচ্ছিন্ন রান্নার গ্যাস পরিষেবা মিলবে বলেই জানা গিয়েছে। এই ব্যবস্থায় খুশি শহরের উপভোক্তারা।
বাঁকুড়া শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সারদাপল্লিতে শুরু হলো পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘বুকিং সমস্যা থেকে মুক্তি মিলেছে। অনেক সময়েই বাড়িতে গ্যাস না–থাকলেও বুকিং সমস্যার অজুহাতে গ্যাস দেওয়া হতো না। এ বার সেই সমস্যা হবে না।’
শহরের সারদাপল্লির বাসিন্দা বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে বাবা ও আমি কাজে বেরিয়ে যাই। রান্নার মাঝখানে হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে গেলে খুব সমস্যায় পড়তে হতো। এ বার থেকে সেই সমস্যা রইল না। সঙ্গে পিএনজি ব্যবহারে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাও নেই।’ গৃহবধূ সোমা চট্টোপাধ্যায়, বেণু দে–র প্রতিক্রিয়া, ‘গ্যাস বুকিং থেকে কবে সেই গ্যাস আসবে, তা নিয়ে ভাবনার সমাপ্তি ঘটল। মুক্তি মিলবে এ বার। এখন প্রতি দু’মাস অন্তর বিল আসবে। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কম। সব মিলিয়ে রান্নার গ্যাস সমস্যা মিটেছে।’
এই বিষয়ে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, ‘এটাই প্রদানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের ভারত। নেশন ফার্স্ট। তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, বাস্তবেও তার রূপদান করলেন। বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের ফলে কালোবাজারি ও দুর্নীতি রোধ সম্ভব। এই ব্যবস্থার সুফল কতটা, সেটা মানুষই বলবেন।’