ফ্লাইটের ভিতরটা কেমন দেখতে? এতদিন জানতেনই না মিথিলেশ সিং। চোখেমুখে ভয় আর বিস্ময় নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বাকিটা ইতিহাস। সোমবার ১৭০ জন কৃষককে দিয়ে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ল প্রথম বিমান। একই সঙ্গে উড়ান দিল তাঁদের স্বপ্নও।
নয়ডার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য জমি দিয়েছিলেন কৃষকরা। এ দিন সাতসকালে তাঁরা জড়ো হন বিমানবন্দরে। জমিদাতা কৃষকদের মধ্যে ২০ জন মহিলাও ছিলেন। কারও চোখে বিস্ময়, কারও মুখে উচ্ছ্বাস, আবার কারও বুকে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের নীরব আনন্দ। অনেকেই প্রথম বার বিমানে উঠলেন। চারপাশ তাকিয়ে তাঁরা তো থ।
সকাল ৮টা নাগাদ তাঁরা চেপে বসেন লখনৌগামী বিমানে। তাঁদের নিয়েই নয়ডার বিমানবন্দর থেকে উড়ে যায় প্রথম বিমান। এই বিমানযাত্রা ছিল প্রতীকী। যাঁরা বিমানবন্দর তৈরির জন্য জমি দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই এই আয়োজন করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেওয়ারের বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিংও। কৃষকদের নিয়ে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাবেন সবাই।
অবশ্য তার আগে সকাল ৭.৫৫ মিনিটে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল প্রথম বিমানটি। লখনৌ চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ান দেয় ইন্ডিগোর এই যাত্রিবাহী বিমান। সকালে অবতরণ করে নয়ডায়। রানওয়ে ছোঁয়ার মুহূর্তে হাততালি দিয়ে ওঠেন যাত্রীরা। উদযাপন করেন ঐতিহাসিক মুহূর্তের। বিমানটিকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে তৈরি হয়েছে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত ২৮ মার্চ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে ৩,৯০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ের পাশাপাশি অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, যেমন ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) এবং উন্নত এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম রয়েছে। এই প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৯,৬৫০ কোটি টাকা।