• রাজ্যের হাতে আরও ১২০০ ‘প্রাইভেট’ বেড, সংরক্ষিত শয্যায় ভর্তিদের থেকে ১ টাকাও না
    এই সময় | ১৫ জুন ২০২৬
  • এই সময়: প্রথম দফায় গত বৃহস্পতিবার কলকাতার ১৭টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ৬৬০টি বেড পাওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছিল। শনিবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকে আরও ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রায় ১২০০টি বেড সরকারি পরিষেবায় যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি মিলেছে।

    শুধু বিনামূল্যে শয্যা দেওয়াই নয়, সংরক্ষিত কোটার রোগীদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালকেই। পাশাপাশি, সব হাসপাতালকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ইমার্জেন্সি রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। শনিবার স্বাস্থ্য ভবনে জেলা স্তরের বেসরকারি হাসপাতালগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তাই স্পষ্ট করে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার।

    স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন অনুযায়ী, সরকারি জমি বা অন্যান্য সুবিধে পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ১০ শতাংশ ইন্ডোর পরিষেবা গরিব রোগীকে বিনামূল্যে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, অনেক ক্ষেত্রে এই পরিষেবা কেবল শয্যা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। সেই পরিস্থিতি পাল্টাতেই শনিবারের বৈঠকে সবিস্তার নির্দেশিকা তুলে ধরা হয়। ওই বৈঠকে মন্ত্রীদের পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যকর্তারাও বেসরকারি হাসপাতালগুলির প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানান, বিনামূল্যের পরিষেবার আওতায় থাকা রোগীদের জন্য বেড চার্জ, চিকিৎসকের ফি, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, কনজি়উমেবলস-সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ হাসপাতালকেই বহন করতে হবে। কোনও ক্ষেত্রেই রোগী বা তাঁর পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। সরকারি রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো রোগীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক হবে।

    স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্রসূতি বা অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা নিয়ে আসা রোগীকে কোনও অবস্থাতেই ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব করা যাবে না এবং ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। রোগীর আর্থিক অবস্থা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার কারণ দেখিয়ে চিকিৎসা আটকে রাখারও সুযোগ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।

    তা ছাড়া, পরিষেবা কার্যকর করতে প্রতিটি হাসপাতালকে আলাদা ফেসিলিটি ম্যানেজার নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে সংরক্ষিত শয্যাগুলির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই পরিষেবার জন্য আলাদা নার্সিং ও সহায়ক স্বাস্থ্যকর্মী রাখতে হবে। পাশাপাশি, রোগী ও তাঁদের পরিবারের অভিযোগ জানানোর জন্য টোল-ফ্রি কলব্যাক ব্যবস্থা চালু করার কথাও বলা হয়েছে। ভালো ভাবে সকলে দেখতে পাবেন, এমন কোনও জায়গায় বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় বিনামূল্যের পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিসপ্লে বোর্ডে।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রায় সব হাসপাতালই সংরক্ষিত শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা, নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালের উপর চাপ কিছুটা কমবে এবং আর্থিক কারণে এতদিন বঞ্চিত থাকা রোগীদের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সহজলভ্য হবে।

  • Link to this news (এই সময়)