• গরম পেরিয়ে বর্ষায় আরও মহার্ঘ ডিম, নেপথ্যে রাজনীতিকদের ‘ডিম থেরাপি’?
    প্রতিদিন | ১৫ জুন ২০২৬
  • রাজ্য রাজনীতিতে ডিম-সংস্কৃতির রমরমার মাঝে আচমকাই বেড়ে গেল পোলট্রির ডিমের দাম। আপাতত বর্ষাতেও সেই দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যবসায়ী ও ডিম সংগঠনের কর্তারা। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ডিম উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর সেটাই দামবৃদ্ধির মূল কারণ। এই পরিস্থিতিতে জনতা চক্ষুশূল রাজনৈতিক নেতাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে নষ্ট না করে কি নিজেদের পুষ্টির দিকে নজর দেবেন? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

    জুন মাসের শুরুতে এক ট্রে ডিমের দাম ছিল ১৮০ টাকা। সেটাই মাসের মাঝামাঝিতে এসে ২২০-২৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে! পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতি ডিমের এই বাড়তি দাম সম্পর্কে জানিয়েছেন, ‘‘ভ্যাপসা গরম, জ্বালানির দাম ও কর্মীদের দুর্যোগের জন্য বাড়ছে ডিমের দাম। যে সকল ট্রাক ও লরিচালক ডিম বিতরণ করছেন শহরে ও গ্রামে, তাঁদের থাকা-খাওয়ার খরচ দিনদিন বাড়ছে। গরমের মাঝেও কাজের কারণে বাড়ছে মাইনে। সবমিলিয়ে ডিমের বাড়তি দাম তৈরি হচ্ছে বাজারে। সরকার যদি জ্বালানির দাম কমায়, তাহলেই ডিমের খরচা কিছুটা কমবে। ডিমের দাম শুধু কলকাতাতেই নয়, বাড়ছে রাজ্যের নানা প্রান্ত ও হরিয়ানা, পাঞ্জাবেও। তবে কিছু মানুষের এখনও বিশ্বাস, ৫ টাকায় ডিম সারাজীবন পাবেন। তাঁদের এই ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে দূর করতে হবে, কারণ আগামী দিনেও বাড়বে ডিমের দাম।”

    মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আবার এই দামবৃদ্ধিতে তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে সাম্প্রতিক পচা ডিম ছোড়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন। উল্লেখ্য, গড়িয়াহাটে পচা ডিমের পেটি কম দামে মিলছে। কখনও নিখরচায়ও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। বেহালা বাজারের এক বিক্রেতা জানিয়েছেন, ‘‘গত এক সপ্তাহে ডিমের পাইকারি দাম একাধিকবার বেড়েছে। বাধ্য হয়েই, খুচরো বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।” গড়িয়াহাটের বিক্রেতার মতে, ‘‘ক্রেতারা দাম নিয়ে প্রশ্ন করছেন, কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে।”

    বাজারে ৩০টি ডিমের একটি পাতার দাম পৌঁছে গেছে ২১০ থেকে ২১৫ টাকায়। বিগত কিছু দিন ধরে আনাজ ও তেলের দাম নিয়ে সংকট দেখা গিয়েছে জনতার মাঝে, এবার সেই দলে নাম লেখাল ডিমও। রাজ্যে শাক-সবজির দাম ২৬ শতাংশ থেকে দাঁড়িয়েছে ৫৩ শতাংশে, অন্যদিকে তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫৫ থেকে ৩২১ প্রতি লিটার। জুনের মাঝামাঝি থেকেই ডিমের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। এখন প্রতিটি ডিমের দাম ৬.৫০ টাকা, ডজনের ক্ষেত্রে ৭৮ টাকা ও ৬৫০ টাকা প্রতি ১০০টি ডিমের দাম। পাইকারি বাজারে সাত কার্টেন ডিমের দাম প্রায় ১৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে। খুচরো বাজারে এক একটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। শীতকালে সাধারণত ডিমের দাম বৃদ্ধি দেখা যায় কেক, বেকারি ও বিভিন্ন খাদ্য তৈরির জন্য তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষার মিশ্রিত আবহাওয়ার মাঝে ডিমের দাম বাড়ার আভাস সত্যি আশ্চর্যের।

    এবারের ডিমের দামবৃদ্ধির প্রধান কারণ ভ্যাপসা গরম ও হালকা বৃষ্টি ছাড়াও উৎপাদনে ঘাটতি। উৎপাদন কমার সঙ্গে সঙ্গে কমছে ডিম পাড়ার হার ও পোলট্রিতে মৃত্যুহার বৃদ্ধি। বাড়ছে জ্বালানির খরচ, বৃদ্ধি পাচ্ছে যাতায়াত ও পরিবহণ খরচও। বেশিরভাগ ডিম আনা হয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা থেকে, যা বাড়তি জ্বালানির খরচে আদানপ্রদানের বাধা সৃষ্টি করছে। উলটোদিকে ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো প্রধান খাদ্য উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে ডিম উৎপাদনের খরচ, জানিয়েছেন ডিম বিক্রেতারা। মিড-ডে মিল যে কিছুটা হলেও সমস্যায় পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
  • Link to this news (প্রতিদিন)