সমস্ত স্কুলেই যোগাভ্যাস বাধ্যতামূলক হবে, দাবি আয়ুষমন্ত্রী প্রতাপ রাওয়ের
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: আগামী রবিবার কলকাতায় হবে দ্বাদশ ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে’র মূল অনুষ্ঠান। ২১ জুনের অনুষ্ঠানে সেখানে অংশ নেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী তথা শিবসেনা (সিন্ধেপন্থী) সাংসদ প্রতাপ রাও জাধব। কলকাতার পাশাপাশি লালকেল্লা, হর কি পৌরি ঘাট, কোনারক সূর্য মন্দির, হাম্পি, লে প্রাসাদ, মহাবলীপুরম, সারনাথ, নালন্দা, কাঞ্চেরি দুর্গ, চারমিনার, গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া এবং সবরমতী রিভার ফ্রন্টের মতো ১২ জায়গাতেও পালন করা হবে যোগ দিবস।
এবার মূল অনুষ্ঠানের জন্য কেন কলকাতাকে বেছে নেওয়া হল? একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতাপ রাও জাধব ‘বর্তমান’কে বলেন, ‘বাম ও তৃণমূলের পর এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার এসেছে। আগের সরকার হিন্দুত্বকে গুরুত্ব দিত না। তাই পাঁচ হাজার বছরের পুরানো ঋষি মুনিদের দেখিয়ে যাওয়া যোগভ্যাস পালনে ছিল অনীহা। এবার হিন্দুত্বের বার্তা দিতেই চমকপ্রদভাবে পালন হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। যোগ দিবস পালনে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পঞ্চায়েত, ব্লকস্তরের প্রধানদের চিঠি দিয়েছেন। জায়ান্ট স্ক্রিনে কলকাতার ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠান গোটা দেশে সম্প্রচার হবে।’ এবারের যোগ দিবসের থিম ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’। এমন থিম বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে জাধব বলেছেন, ক্ষমতায় এসে ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে পরিণত করার সংকল্প নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তা পূরণ হয়েছে। বিশ্বের ১২৯টি দেশ যোগ দিবস পালন করে। ভারত তরুণদের দেশ। কিন্তু তারাও একসময় বৃদ্ধ হবে। সেই সময়েও যাতে সুস্থ, নিরোগ থাকা যায়, তার বার্তাই দেওয়া হয়েছে এবারের থিমে। তিনি আরও বলেছেন, স্কুলস্তর থেকেই কি যোগ ব্যায়ামে জোর দেওয়া দরকার। নয়া শিক্ষা নীতিতে এই বিষয়টি স্থান করে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে যোগ ব্যায়াম আবশ্যিক। একইভাবে রাজ্যের স্কুলেও তা বাধ্যতামূলক হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ৪৫ মিনিট যোগাভ্যাস করতে হয়। যোগাভ্যাসের নিয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে। তাই স্কুলে তা কীভাবে বাধ্যতামূলক করা হবে? এই প্রশ্নে জাধবের জবাব, ‘ওম’ উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে যোগাভ্যাস শুরু হয়। সূর্য প্রণাম করতে হয়। তাই অনেকে আপত্তি করেন। তবে যোগাভ্যাসের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। শরীরকে যদি মন্দির মনে করেন, তাহলে যে কোনো ধর্মের মানুষই মুক্তমনে যোগাভ্যাস করতে পারেন। সেই কারণেই এবার কলকাতায় যোগ দিবসের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। কলকাতা আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক পূণ্যভূমি। সর্বধর্মের মাটি। আমরা চাই, সবাই যোগ দিবসে যোগ দিন।’