• বক্সায় ফের শোনা যাবে হালুম ডাক! ২৯ জুলাই আসছে ডোরাকাটা, ইঙ্গিত বনমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বক্সায় ফের শোনা যাবে হালুম ডাক। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসেই সেখানে নিয়ে আসা হবে ডোরাকাটা। রবিবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পর্যটন কেন্দ্র সিকিয়াঝোরা ঘুরে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। বক্সায় বাঘ আনার ব্যাপারে গত সরকারের আমলে অনেক কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এসে পৌঁছয়নি। রাজ্যে পালাবদল হতেই বক্সায় ব্যাঘ্র প্রকল্পের তকমা টিকিয়ে রাখতে এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।

    রবিবার প্রশ্নের উত্তরে বনমন্ত্রী বলেন, বক্সায় বাঘ আসবে। এখনও পর্যন্ত ২৯ জুলাই তারিখ ঠিক হয়েছে। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন। 

    বক্সায় বাঘের অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। যদিও চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি বনদপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বক্সায় ট্র্যাপ ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গলের ছবি ধরা পড়েছে। এর আগে ২০২১ সালে প্রায় ৩০ বছর পর বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও এর অনেক আগে ২০১৭ সালে বাঘের বংশবৃদ্ধি না হওয়ায় বক্সা থেকে ব্যাঘ্র প্রকল্পের তকমা কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজ্যকে কড়া চিঠি দেয় ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি। সেসময় এনটিসিএ’র কাছে অন্য কোনো জায়গা থেকে বক্সায় বাঘ আনা হবে বলে আবেদন জানায় রাজ্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যকে বেশ কয়েকটি শর্ত বেঁধে দেয় রাজ্য। শর্ত মতো তৃণমূল সরকারের উদ্যোগে সেসময় বক্সা থেকে সরানো হয় বনবস্তি। বাঘের খাবারের জন্য বক্সায় ছাড়া হয় চিতল ও সম্বর হরিণ। কিন্তু ওই পর্যন্তই। বক্সায় আর পা রাখেনি ডোরাকাটা। শোনা যায়নি হালুম। 

    কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বক্সায় বাঘ আনার কথা জানিয়েছেন। তারপর থেকেই রাজ্য বনদপ্তরও এনিয়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে। 

    বনদপ্তর সূত্রের খবর, যাঁরা পুনর্বাসন প্যাকেজ নিয়ে চলে যান, যেতে পারেন। যাঁরা যাবেন না, তাঁদের এনক্লোজার দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, মন্ত্রীর ইঙ্গিত মোতাবেক যদি ২৯ জুলাই বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছাড়া হয়, তার আগে জঙ্গলের ভিতরে এনক্লোজার তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। এত কম সময়ে আদৌও কি তা শেষ করা সম্ভব?

    এদিকে, এদিন বক্সার জঙ্গলের ভিতরে সিকিয়াঝোরা ঝিলে বনমন্ত্রী নৌকাবিহারও করেন। পরে বলেন, যতটা সম্ভব সিকিয়াঝোরা ঝিলটির সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে সেখানকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এদিন বনমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল, দুই উপক্ষেত্র অধিকর্তা হরিকৃষ্ণন পিজে ও দেবাশিস শর্মা। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)