কাটাতেল থেকে সাট্টা, চোরাচালান পূর্ব মেদিনীপুরে বন্ধ অবৈধ কারবার
বর্তমান | ১৫ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ক্যামাক স্ট্রিটকে খুশি করেই অবৈধ কারবারের লাইসেন্স জোগাড় করে নিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের প্রভাবশালী কিছু তৃণমূল নেতা। তাঁদের কাজে সায় থাকত পুলিশের একাংশের। হলদিয়া-কোলাঘাট জাতীয় সড়ক বরাবর তেল কাটিং থেকে তোলাবাজি, অবৈধ লোটো, সাট্টা থেকে চোরাচালান পর্যন্ত বৈধতা পেয়ে গিয়েছিল। কখনও সখনও অভিযান হলেও আগাম তার খবর জানিয়ে দেওয়া হতো। বিনিময়ে মোটা টাকার বখরা পৌঁছে যেত কলকাতায়। পুলিশের একাংশ এজন্য মাসোহারা নিত। গত ৪ মে পালাবদলের পর অবৈধ কারবার অনেকটাই বন্ধ। বেআইনি কারবারে জড়িত থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কাটাতেলের অবৈধ কারবার সবথেকে বেশি হতো। এই জেলায় বালি, পাথর খাদান নেই। এখানকার রূপনারায়ণ, হলদি কিংবা কংসাবতীর বালি নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয় না। শুধুমাত্র নীচু জায়গা ভরানোর কাজে লাগে। যে কারণে বালি থেকে উপার্জনের সুযোগ কম। তাই অসাধু চক্র বেশি জড়িয়ে পড়েছিল কাটাতেলের কারবারে। হলদিয়া থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক বরাবর টিন ঘেরা গোপন আস্তানায় চলে এই তেল কাটিং কারবার। বিপুল মুনাফা হয়। পুলিশের একাংশ, রাজনৈতিক নেতাদের পকেট ভরিয়ে অসাধু চক্র এই কারবার চালাত। উপরমহলকে খুশি করে এই জেলায় কাটাতেলের কারবার ‘বৈধতা’ পেয়ে যায়। লোটো এবং সাট্টা কারবারিদের প্রথম পছন্দের জায়গা পূর্ব মেদিনীপুর। কলকাতা ও শহরতলির জুয়াড়িরা এই জেলার ভবানীপুর, মহিষাদল, নন্দকুমার, ভূপতিনগর, কাঁথি, ময়না, নন্দীগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় মুদি দোকানের মতো লোটোর কাউন্টারে ছেয়ে দিয়েছিল। রাতদিন টাকা লুট চলত। একটা সময় সাহেব, বিবি, গোলাম, তুরুপের তাসে ভাগ্য নির্ধারণ হতো। কম্পিউটারের যুগে নিজস্ব সফ্টওয়ারে ইংরেজি কোডে ঝুলে থাকে ভাগ্য। তাতে লক্ষ্মী হাসলে কিস্তিমাত, না হলেই সর্বনাশ। কাঁচা, পাকা গুমটি দোকানের দরজায় পুরু পর্দা ঝুলিয়ে ভেতরে এই অবৈধ কারবার চলত। প্রত্যেক কাউন্টারে এজেন্ট বসে থাকত। টিকিট না কাটলে ভেতরে ঢোকার অনুমতি পাওয়া যায় না। সন্ধ্যার পর ভাগ্য পরীক্ষার জন্য কাউন্টারের সামনে ভিড় জমত। পালাবদলের পর সেই লোটোর কাউন্টার বন্ধ। উপরওয়ালাদের খুশি করেই এই জেলায় বছরের পর বছর লোটো অবাধে চলত।
চোরাচালান চক্রও পূর্ব মেদিনীপুরে বেশ সক্রিয় ছিল। কাঁথি ও জুনপুট কোস্টাল থানার অন্তর্গত শুনিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় রসুলপুর নদী থেকে সুপারি ও অন্যান্য সামগ্রী জাহাজ থেকে কাটিং করে নৌকা পথে আনা হতো। তারপর সেইসব সামগ্রী সড়ক পথে নানা জায়গায় পৌঁছে যেত। এই চোরা কারবারেও পুলিশের একাংশের মদত থাকত। গত ৪ মের পর সেই কারবারও বন্ধ।
বিজেপির জেলা সহ সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের একটা অংশ গোটা জেলায় বেআইনি কাজ কারবার করে গিয়েছে। অসাধু কারবারের ভাগ যেত দলের উপর মহলের কাছে। এভাবেই পুলিশ প্রশাসনের মদত জুটত। তার বিনিময়ে তেল কাটিং থেকে অনলাইন জুয়া, চোরা চালান সবই অবাধে চলত। ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ার পর সেসব বন্ধ। আমরা চাই, আগে যারা এসব কারবার চালাত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হোক। প্রতীকী চিত্র